গাইড

Ausbildung সিভি: আন্তর্জাতিক প্রার্থীদের জন্য একটি জার্মান Lebenslauf টেমপ্লেট

Ausbildung আবেদনের জন্য জার্মান Lebenslauf টেমপ্লেট: প্রতিটি অংশের বাংলা ব্যাখ্যা এবং জার্মানির বাইরের স্কুলের সার্টিফিকেট কীভাবে উল্লেখ করতে হবে তার সঠিক নিয়ম।

B1 Atlas · হালনাগাদ

যে কাজের বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করতে চান সেটি এবং আপনার স্কুলের সব সার্টিফিকেট সামনে নিয়ে বসুন। আপনি এখন তৈরি করতে যাচ্ছেন Lebenslauf — অর্থাৎ শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার এক পৃষ্ঠার একটি সুবিন্যস্ত তালিকা, যাকে ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি (Bundesagentur für Arbeit) যেকোনো জার্মান চাকরির আবেদনের মূল ভিত্তি বলে আখ্যা দিয়েছে।

এটি কোনো দীর্ঘ জীবনবৃত্তান্ত নয়, কিংবা শুরুতে নিজের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দিয়ে সাজানো কোনো আমেরিকান ধাঁচের রেজুমেও নয়। এজেন্সির সিভি সংক্রান্ত নির্দেশিকায় একে এক থেকে সর্বোচ্চ দুই A4 পৃষ্ঠার একটি তারিখভিত্তিক টেবিল বা তালিকা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যেখানে সবচেয়ে সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতাটি সবার উপরে থাকে। এর প্রায় প্রতিটি লাইনের বাঁ পাশে থাকে তারিখ বা সময়কাল এবং ডান পাশে থাকে সংক্ষিপ্ত ও সুনির্দিষ্ট তথ্য।

এই গাইডে সেই টেবিলটি সরাসরি জার্মান ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে, প্রতিটি লাইনের অর্থ বাংলায় বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং জার্মানির বাইরে পড়াশোনা ও কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে তা কীভাবে লিখতে হবে তা স্পষ্ট করা হয়েছে।

অফিশিয়াল নিয়মগুলো আসলে কী

জার্মানির কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় তিনটি বিষয় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, যা যেকোনো Ausbildung আবেদনের ক্ষেত্রে প্রাথমিক নিয়ম হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত:

  • দৈর্ঘ্য: এক A4 পৃষ্ঠা, খুব বেশি হলে সর্বোচ্চ দুই পৃষ্ঠা। ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সির মতে এটি এক থেকে সর্বোচ্চ দুই পৃষ্ঠা এবং Make it in Germany পোর্টালের মতে সিভি দুই পৃষ্ঠার বড় হওয়া উচিত নয়, বরং এক পৃষ্ঠা হওয়াই আদর্শ। ইংরেজি বিভিন্ন ওয়েবসাইটে তিন পৃষ্ঠার যেসব পরামর্শ দেখা যায়, তা এই অফিশিয়াল নির্দেশনার সাথে মেলে না।
  • ক্রম: প্রতিটি অংশের ভেতরে সবচেয়ে সাম্প্রতিক তথ্যটি সবার উপরে থাকবে, এরপর ক্রমানুসারে আগের তথ্যগুলো আসবে (reverse chronological order)।
  • প্রতি আবেদনের জন্য আলাদা সিভি: ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি আবেদনকারীদের বারবার সতর্ক করে যেন তারা একই সিভি দিয়ে একাধিক জায়গায় আবেদন না করে, এবং যেকোনো টেমপ্লেটকে কেবল একটি প্রাথমিক কাঠামো হিসেবে ব্যবহার করে। এই গাইডের টেমপ্লেটের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

সিভিতে ছবি ও স্বাক্ষর দেওয়া ঐচ্ছিক। তবে দুটোর ক্ষেত্রেই কিছু শর্ত রয়েছে, যা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

সিভির ছয়টি অংশ (ধারাবাহিকভাবে)

জার্মান Ausbildung সিভিতে প্রায় সবসময় এই ছয়টি অংশ থাকে। নিচে দেওয়া জার্মান শিরোনামগুলো ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সির নিজস্ব নমুনা সিভিতে (PDF, জার্মান) ব্যবহৃত হয়েছে:

  1. Angaben zur Person — ব্যক্তিগত তথ্য
  2. Praktische Erfahrung — বাস্তব বা কাজের অভিজ্ঞতা
  3. Schulbildung — স্কুল শিক্ষা
  4. Persönliche Fähigkeiten und Kompetenzen — ব্যক্তিগত দক্ষতা ও যোগ্যতা
  5. Hobbys — শখ বা আগ্রহ (যা ঐচ্ছিক)
  6. স্থান, তারিখ এবং স্বাক্ষর

নিচের টেমপ্লেটটি একটি একটি অংশ ধরে পূরণ করুন। থার্ড ব্র্যাকেটের ভেতরের অংশগুলো আপনার নিজের আসল তথ্য দিয়ে পরিবর্তন করে নেবেন। চূড়ান্ত সিভিতে কোনো ব্র্যাকেট বা ব্র্যাকেটের লেখা থাকবে না।

1. ব্যক্তিগত তথ্য

পৃষ্ঠার শুরুতে বড় করে শিরোনাম দিন Lebenslauf, তারপর এই অংশটি শুরু করুন:

Angaben zur Person
Name[Vorname Nachname]
Anschrift[Straße und Hausnummer]
[Postleitzahl und Ort], [Land]
Telefon[Ländervorwahl und Nummer, z. B. +49 151 12345678]
E-Mail[Ihre E-Mail-Adresse]
Geburtstag und -ort[TT.MM.JJJJ] in [Ort], [Land]
Staatsangehörigkeit[Ihre Staatsangehörigkeit], freiwillig

ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সির তালিকা অনুযায়ী এখানে থাকবে: আপনার নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, ইমেইল অ্যাড্রেস এবং জন্মতারিখ ও জন্মস্থান। মা-বাবার পেশা লেখার কোনো প্রয়োজন নেই।

পারিবারিক তথ্য বা জাতীয়তা উল্লেখ করা পুরোপুরি ঐচ্ছিক, আর প্রতিষ্ঠান নিজে থেকে না চাইলে ধর্মের কথা লেখার কোনো দরকার নেই। তবে আন্তর্জাতিক অনেক আবেদনকারী নিজ থেকেই জাতীয়তা উল্লেখ করেন, কারণ এর মাধ্যমে পরবর্তীতে ভিসার বিষয়টি কেন আসছে তা প্রতিষ্ঠান বুঝতে পারে। এটি একান্তই আপনার সিদ্ধান্ত, কোনো বাধ্যবাধকতা নয়।

বিদেশ থেকে আবেদন করার সময় দুটি ব্যবহারিক বিষয় মনে রাখবেন: ফোন নম্বরে অবশ্যই দেশের কান্ট্রি কোড (+880 বা সংশ্লিষ্ট কোড) যুক্ত করবেন, যাতে আপনাকে কল করার সময় কাউকে নম্বর মেলাতে না হয়। আর ইমেইল অ্যাড্রেসটি যেন আপনার নিজের নাম দিয়ে তৈরি একটি পেশাদার ইমেইল হয়। আবেদনের উত্তরের অপেক্ষায় থাকার সময় নিয়মিত ইমেইলের স্প্যাম ফোল্ডারও চেক করবেন।

তারিখ লেখার ক্ষেত্রে জার্মান রীতি অনুসরণ করুন: দিন-মাস-বছর, অর্থাৎ TT.MM.JJJJ। যেমন ২০০৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি লিখতে হবে 03.02.2008 হিসেবে।

2. বাস্তব অভিজ্ঞতা

Praktische Erfahrung
seit 09/2025[Tätigkeit], [Name des Betriebs], [Ort, Land]
Aufgaben: [Aufgabe 1], [Aufgabe 2], [Aufgabe 3]
03/2025 – 06/2025Praktikum, [Name des Betriebs], [Ort, Land]
Aufgaben: Beratung von Kundinnen und Kunden, Einsortieren von Waren, Prüfen der Preisschilder
07/2024 – 08/2024Nebenjob, [Name des Betriebs], [Ort, Land]
Aufgaben: Vorbereitung des Verkaufsstands, Kassieren, Aufräumen nach Ladenschluss

এখানে Praktikum মানে ইন্টার্নশিপ বা কাজের অভিজ্ঞতা, Nebenjob মানে পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট-টাইম চাকরি, Aufgaben মানে আপনার দায়িত্ব বা কাজ, এবং বর্তমানেও কোনো কাজ চালু থাকলে তার ক্ষেত্রে ব্যবহার হয় seit (অর্থাৎ “… থেকে” বা “… হতে”)।

তারিখের ক্ষেত্রে মাস এবং বছর উল্লেখ করাই যথেষ্ট। প্রতিটি অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সির নিয়ম হলো: প্রতিষ্ঠানের নাম, আপনার পদের নাম এবং বাস্তবে কী কী কাজ করেছেন তার ৩ থেকে ৫টি ছোট বুলেট পয়েন্ট যোগ করা।

আপনার যদি বেতনের কোনো চাকরির ইতিহাস না থাকে, তবুও এই অংশটি খালি রাখবেন না। অফিশিয়াল নির্দেশনায় স্পষ্ট বলা আছে যে নবাগতরা ইন্টার্নশিপ, পার্ট-টাইম কাজ বা স্বেচ্ছাসেবী কাজ এখানে উল্লেখ করতে পারবেন। কোনো পারিবারিক দোকানে সাহায্য করা, স্কুলের কোনো সফল প্রজেক্টে ভূমিকা রাখা বা কোনো সামাজিক সংগঠনের দায়িত্ব পালন — সবই এখানে যুক্ত করা যায়, যদি আপনি কাজটি বুঝিয়ে বলতে পারেন এবং ইন্টারভিউতে এ নিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর দিতে পারেন।

জার্মান সিভির রীতি অনুযায়ী কাজগুলোর বিবরণ ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য (noun phrases) দিয়ে সংক্ষেপে লিখতে হয়। যেমন Beratung von Kundinnen und Kunden মানে গ্রাহকদের পরামর্শ প্রদান, এবং Prüfen der Preisschilder মানে মূল্যের স্টিকার যাচাই করা। এমন কথাই লিখবেন যা মুখে বুঝিয়ে বলার মতো আত্মবিশ্বাস আপনার আছে, কারণ ইন্টারভিউয়ার এ বিষয়ে বিশদ জানতে চাইতে পারেন।

3. স্কুল শিক্ষা

আন্তর্জাতিক আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই অংশটিতেই সবচেয়ে বেশি ভুল হতে দেখা যায়, তাই এখানে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

Schulbildung
Schulabschluss[Originalbezeichnung des Abschlusses], [Monat/Jahr]
08/2020 – 06/2025[Name der Schule], [Ort], [Land]
Schwerpunkte: [Fach 1], [Fach 2]
08/2014 – 06/2020[Name der vorherigen Schule], [Ort], [Land]

Schulabschluss মানে স্কুলের চূড়ান্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা বা সার্টিফিকেট, এবং Schwerpunkte মানে আপনার মূল বিষয়সমূহ।

আপনার সার্টিফিকেটের মূল নাম হুবহু লিখুন এবং পাশে দেশের নাম দিন (যেমন এসএসসি বা এইচএসসি)। এটিকে নিজে নিজে কোনো জার্মান সার্টিফিকেটের নামে (যেমন Realschulabschluss বা Abitur) অনুবাদ করতে যাবেন না। জার্মানিতে এই নামগুলোর সুনির্দিষ্ট আইনি অর্থ রয়েছে, এবং কেবলমাত্র সরকারি কোনো সনদ স্বীকৃতি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানই (Zeugnisanerkennungsstelle) বলতে পারে আপনার সনদটি এগুলোর সমমানের কি না। সরকারি স্বীকৃতি ছাড়া কোনো জার্মান সনদের দাবি করা আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার শামিল এবং তা সহজেই ধরা পড়ে যায়।

তবে আপনার সার্টিফিকেটের ধরন বুঝতে নিয়োগকর্তাকে সাহায্য করতে পারেন। নিচে দেওয়া একটি অতিরিক্ত লাইন যোগ করলেই তা স্পষ্ট হয়ে যাবে:

Abschluss nach 12 Schuljahren; Schwerpunkte: Mathematik und Biologie. Anerkennung in Deutschland noch nicht beantragt.

এর অর্থ: ১২ বছরের স্কুল শিক্ষা শেষে অর্জিত সনদ; মূল বিষয় ছিল গণিত এবং জীববিজ্ঞান। জার্মানিতে স্বীকৃতির (Anerkennung) জন্য এখনো আবেদন করা হয়নি। এখানে বছর ও বিষয়ের জায়গায় নিজের তথ্য বসিয়ে নিন, আর স্বীকৃতির বাক্যটি কেবল তখনই রাখবেন যদি আপনার ক্ষেত্রে তা সত্যি হয়।

সনদের সরকারি স্বীকৃতি (Anerkennung) আসলে কখন প্রয়োজন

সনদের স্বীকৃতি বা Anerkennung হলো বিদেশি কোনো সনদের সাথে জার্মান সনদের অফিশিয়াল তুলনা। আপনার এই স্বীকৃতি লাগবে কি না তা নির্ভর করে প্রশিক্ষণের ধরনের ওপর — Make it in Germany-এর শর্তাবলি পাতায় এই পার্থক্য বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কোনো প্রতিষ্ঠানে ডুয়াল Ausbildung-এর ক্ষেত্রে — যা মূলত প্রতিষ্ঠান ও ভোকেশনাল স্কুলের সমন্বয়ে পরিচালিত প্রচলিত Ausbildung — জার্মান আইনে নির্দিষ্ট কোনো স্কুল সনদের বাধ্যবাধকতা নেই, ফলে আইনগতভাবে সনদের স্বীকৃতিরও কোনো পূর্বশর্ত নেই। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ শর্ত ঠিক করে, এবং অনেকেই সাধারণত মাধ্যমিক লেভেলের যোগ্যতা চেয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠান যদি নির্দিষ্ট কোনো যোগ্যতার সমমান দেখতে চায়, কেবল তখনই স্বীকৃতির প্রয়োজন হতে পারে।

তবে স্কুলভিত্তিক বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের (schulische Ausbildung) ক্ষেত্রে সাধারণ স্কুল শিক্ষা সম্পন্ন থাকতে হয় এবং সেই সনদের অফিশিয়াল স্বীকৃতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। ঠিক কোন মানের সনদ প্রয়োজন, তা পেশার ওপর নির্ভর করে।

একই পাতায় আরও বলা হয়েছে যে জার্মানির ১৬টি ফেডারেল রাজ্যের স্বীকৃতি প্রদানকারী দপ্তরগুলো এই দায়িত্ব পালন করে; এবং আবেদন জমা দেওয়ার জন্য সাধারণত জার্মানিতে নিবন্ধিত ঠিকানা অথবা নিশ্চিত কোনো ট্রেনিং চুক্তির প্রয়োজন হয়। তাই বিদেশ থেকে আবেদন করা বেশিরভাগ প্রার্থীর জন্য সততার সাথে সনদের মূল নাম লেখা এবং কোনো স্বীকৃতির মিথ্যা দাবি না করাই হলো সঠিক পন্থা।

আপনার যদি আসলেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে সেন্ট্রাল অফিস ফর ফরেন এডুকেশনের anabin ডাটাবেজে (জার্মান) রাজ্যভিত্তিক স্বীকৃতি ও পরামর্শ কেন্দ্রের তালিকা পাওয়া যাবে।

4. দক্ষতা ও যোগ্যতা

Persönliche Fähigkeiten und Kompetenzen
Sprachkenntnisse[Ihre Erstsprache]: Muttersprache
Deutsch: [Niveau, z. B. B1] ([Name der Prüfung], [Monat/Jahr])
Englisch: [Niveau]
Computerkenntnisse[z. B. Word, Excel, Kassensystem]
Führerschein[Klasse und Land, sonst Zeile weglassen]
Persönliche Stärken[Stärke 1], [Stärke 2], [Stärke 3]

এখানে Sprachkenntnisse মানে ভাষা দক্ষতা, Muttersprache মানে মাতৃভাষা, এবং Führerschein মানে ড্রাইভিং লাইসেন্স। যে সারিটি আপনার জন্য প্রযোজ্য নয় তা পুরোপুরি বাদ দিয়ে দিন; কারণ ফাঁকা কোনো লেবেল রেখে দেওয়ার চেয়ে সেটি না থাকা অনেক ভালো।

ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি কেবলমাত্র সেই যোগ্যতাগুলো উল্লেখ করার পরামর্শ দেয় যা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও কাজের জন্য দরকারি — আর এ কারণেই আন্তর্জাতিক আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ভাষার সারিটি সবার উপরে রাখা উচিত। ভাষার লেভেল উল্লেখ করার সময় CEFR মানদণ্ড অনুযায়ী A1 থেকে C2 পর্যন্ত লেভেল লিখুন, তারপর ব্র্যাকেটে পরীক্ষার নাম ও পাসের মাস-বছর দিন। এখনো কোনো সার্টিফিকেট না থাকলে শুধু সেই লেভেলটুকুই লিখুন যা আপনি জার্মান কথোপকথনে প্রমাণ করতে পারবেন, তার চেয়ে বেশি নয়। Make it in Germany ভাষার অতিরিক্ত মিথ্যা দক্ষতা দাবি করার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে, কারণ ইন্টারভিউতে আসল দক্ষতা মুহূর্তেই প্রকাশ পেয়ে যায়। Ausbildung-এর ক্ষেত্রে B1 লেভেল দিয়ে কী কী সম্ভব আর কী সম্ভব নয়, তা জানতে পড়ুন আমাদের B1 ও Ausbildung সংক্রান্ত গাইড।

Persönliche Stärken বা ব্যক্তিগত শক্তির ক্ষেত্রে এমন দুই বা তিনটি গুণ বেছে নিন যার পক্ষে আগের অভিজ্ঞতার অংশ থেকে উদাহরণ দিতে পারবেন। যেমন Zuverlässigkeit (দায়িত্বশীলতা), Teamfähigkeit (দলে মিলে কাজ করার ক্ষমতা) এবং Sorgfalt (মনোযোগ বা যত্নশীলতা) সাধারণ পছন্দ। কোনো প্রমাণ ছাড়া শুধুই গুণের নাম লিখে রাখলে পরবর্তীতে ইন্টারভিউতে তা প্রমাণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

5. শখ ও সামাজিক কার্যক্রম

Hobbys und Ehrenamt
Hobbys[Hobby 1], [Hobby 2]
Ehrenamt[Tätigkeit], [Organisation], [Zeitraum]

Ehrenamt হলো অবৈতনিক বা স্বেচ্ছাসেবী কোনো দায়িত্ব। ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সির পরামর্শ হলো স্বেচ্ছাসেবী কাজ বা ক্লাবের সদস্যপদ থাকলে তা অবশ্যই উল্লেখ করা, আর শখের বিষয়টি কেবল তখনই লেখা যখন তা আবেদনের কাজের সাথে প্রাসঙ্গিক। Make it in Germany-ও ব্যক্তিগত শখ বা আগ্রহকে বাধ্যতামূলক নয় বরং ইতিবাচক অতিরিক্ত তথ্য হিসেবে দেখে। আপনার পৃষ্ঠায় যদি জায়গা কম থাকে, তবে এই অংশটি নির্দ্বিধায় বাদ দিতে পারেন।

6. স্থান, তারিখ এবং স্বাক্ষর

সিভির শেষে আপনার শহরের নাম, তারিখ এবং স্বাক্ষর দিন:

[Ort], [TT. Monat JJJJ]

[Unterschrift]

এই লাইনে তারিখটি মাসের নামসহ লিখতে হয়, যেমন 3. Februar 2026। অফিশিয়াল নমুনা সিভির পরামর্শ অনুযায়ী কভার লেটারে যে তারিখ ব্যবহার করবেন, এখানেও হুবহু সেই একই তারিখ দেবেন।

ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সির মতে স্বাক্ষর করা একদম বাধ্যতামূলক নয়, তবে এটি বাড়তি সুবিধা দেয়; কারণ এটি প্রমাণ করে যে তথ্যগুলো সঠিক এবং হালনাগাদ। ইমেইল বা অনলাইন পোর্টালের আবেদনের ক্ষেত্রে এজেন্সির আবেদন নির্দেশিকা অনুযায়ী ফাইলে স্ক্যান করা স্বাক্ষর যুক্ত করতে বলা হয়েছে। স্ক্যানার না থাকলে সাদা কাগজে দস্তখত করে মোবাইলে পরিষ্কার ছবি তুলেও বসিয়ে দিতে পারেন।

সিভিতে ছবি কি দিতেই হবে?

ইংরেজির অনেক পুরনো নির্দেশিকায় এখনো বলা হয় যে জার্মান সিভিতে ছবি থাকতেই হবে। এই তথ্যটি এখন আর ঠিক নয়।

ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে আবেদনের জন্য ছবি দেওয়া এখন আর বাধ্যতামূলক নয়, তবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখনো এর প্রচলন আছে। তাদের Ausbildung নির্দেশিকাতেও একই কথা বলা হয়েছে — এটি এখন আর কোনো আবশ্যিক বিষয় নয়, এবং অনলাইন আবেদনে কখনো কখনো আলাদাভাবে ছবি আপলোড করতে হতে পারে। সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের নির্দেশনায় আরও এক ধাপ এগিয়ে বলা হয়েছে: কিছু নিয়োগকর্তা এখন পুরোপুরি বেনামী বা পরিচয়হীন (anonymised) সিভি আশা করেন, যেখানে কোনো ছবি থাকে না এবং জেন্ডার বা জাতিগত পরিচয় অনুমান করা যায় এমন তথ্যও বাদ দেওয়া হয়।

এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে জার্মানির সমান আচরণ সংক্রান্ত সাধারণ আইন বা Allgemeines Gleichbehandlungsgesetz (AGG)। বর্ণ, জাতিগত পরিচয়, জেন্ডার, ধর্ম বা বিশ্বাস, প্রতিবন্ধিতা, বয়স কিংবা যৌন পরিচয়ের কারণে যেন কোনো ধরনের বৈষম্য না হয় বা তা দূর করা যায়, সেজন্যই এই আইন। কেবল কর্মরত ব্যক্তিরাই নন, বরং আবেদনকারীরাও এই আইনের আওতাভুক্ত; এবং ফেডারেল অ্যান্টি-ডিসক্রিমিনেশন এজেন্সি (Antidiskriminierungsstelle des Bundes) নিশ্চিত করেছে যে আবেদন প্রক্রিয়া থেকেই এই সুরক্ষা কার্যকর হয়। আইনটি কিন্তু ছবি দেওয়া নিষিদ্ধ করেনি। তবে এই আইনের কারণেই বাধ্যতামূলক ছবির নিয়ম উঠে গেছে এবং কিছু প্রতিষ্ঠান নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে ছবি পুরোপুরি সরিয়ে নিয়েছে।

বাস্তব ক্ষেত্রে যা করবেন:

  • বিজ্ঞাপনে যদি ছবি চাওয়া হয়: ছবি যুক্ত করুন।
  • বিজ্ঞাপনে ছবির বিষয়ে কিছু বলা না থাকলে: ছবি দেওয়া বা না দেওয়া দুটোই স্বাভাবিক। ছবি দিলে অফিশিয়াল নমুনা অনুযায়ী তা সিভির ওপরের অংশে অথবা আলাদা কাভার পেজ থাকলে সেখানে বসান।
  • বিজ্ঞাপনে যদি পরিচয়হীন (anonymised) সিভি চাওয়া হয়: ছবি এবং সেই সাথে ঐচ্ছিক ব্যক্তিগত তথ্যগুলোও বাদ দিন।

আপনি যদি সিভিতে ছবি দেন, তবে ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি প্রফেশনাল কোনো স্টুডিও থেকে পেশাদার ছবি তোলার পরামর্শ দেয় — পাসপোর্টের ছবি, ভ্রমণের ছবি, পুরো শরীরের ছবি বা সেলফি দেওয়া যাবে না।

শিক্ষাজীবন বা কর্মজীবনের বিরতি (Gaps) কীভাবে সামলাবেন

স্কুল, চাকরি বা ইন্টার্নশিপের বাইরে দুই মাসের বেশি কোনো বিরতি থাকলে সিভিতে সেই সময়ে কী করেছেন তার একটি ছোট ব্যাখ্যা থাকা উচিত। কোনো ভাষা কোর্স, পরিবারের সদস্যদের সেবাযত্ন, ভ্রমণ, ভিসার সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করা কিংবা কোনো অবৈতনিক কাজ — নির্দিষ্ট তারিখের আলাদা লাইনে কয়েক শব্দে তা উল্লেখ করে দিন।

জার্মান শিক্ষার্থীদের চেয়ে আন্তর্জাতিক আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ; কারণ ভিসা পাওয়া এবং শিক্ষাবর্ষ শুরুর সময় সবসময় একসাথে মেলে না। সিভিতে কোনো ব্যাখ্যাহীন ফাঁকা বছর থাকলে দূর থেকে বসে আপনি নিয়োগকর্তার সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন না। কিন্তু তারিখসহ একটি মাত্র লাইন প্রশ্ন তোলার আগেই তার উত্তর দিয়ে দেয়।

সিভি পাঠানোর আগে যা যা মেলাবেন

সিভি মূলত আবেদনপত্রের দলিলের একটি অংশ। ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সির আবেদনের কাগজপত্র সংক্রান্ত নির্দেশিকা অনুসারে একটি পূর্ণাঙ্গ আবেদনে সাধারণত কভার লেটার, সিভি এবং সার্টিফিকেট থাকে; আর প্রার্থীরা সাধারণত শেষ দুই বছরের স্কুলের রিপোর্ট বা মার্কশিটও সাথে দেন। সবসময় স্ক্যান কপি পাঠান, মূল কাগজপত্র সবসময় নিজের কাছে রাখবেন।

ফাইল যুক্ত করার আগে এই বিষয়গুলো মিলিয়ে নিন:

  1. প্রতিটি তথ্যই কি এমন কোনো সত্য যা প্রমাণ করা যায় এবং ইন্টারভিউতে মুখে বুঝিয়ে বলা সম্ভব?
  2. পুরো সিভিটি কি এক পৃষ্ঠার মধ্যে, অথবা খুব বেশি হলে সর্বোচ্চ দুই পৃষ্ঠার মধ্যে রয়েছে?
  3. তারিখগুলো কি জার্মান রীতি অনুযায়ী লেখা হয়েছে এবং সিভি ও কভার লেটারের তারিখ কি হুবহু এক?
  4. টেমপ্লেটের সব থার্ড ব্র্যাকেট কি বাদ দেওয়া হয়েছে?
  5. কোনো জার্মানভাষী ব্যক্তি কি বানান এবং ব্যাকরণগত বিভক্তিগুলো অন্তত একবার পড়ে দেখেছেন?

ইমেইলে পাঠানোর জন্য এজেন্সি প্রতিটি ডকুমেন্টকে PDF ফরম্যাটে রূপান্তর করে একটি ফাইলে যুক্ত করার পরামর্শ দেয়। অন্যদিকে অনলাইন পোর্টালগুলোতে সাধারণত ফাইলগুলো একটি একটি করে আপলোড করতে হয়। তবে চাকরির বিজ্ঞাপনে যদি কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম দেওয়া থাকে, তবে সেটিই সবার আগে মেনে চলতে হবে।

নিজে টেবিল তৈরি করার চেয়ে কোনো ফর্ম পূরণ করে সিভি বানাতে চাইলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিনামূল্যের Europass CV বিল্ডার ব্যবহার করতে পারেন, যা ৩১টি ভাষায় সিভি তৈরি করে এবং Make it in Germany-ও প্রার্থীদের এটি ব্যবহারের পরামর্শ দেয়। এটি পূরণের সময়ও উপরের অংশগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখুন, কারণ Ausbildung আবেদন দেখার সময় জার্মান নিয়োগকর্তারা এই ক্রমটি দেখতেই অভ্যস্ত।

এর পরের পদক্ষেপ কী

শুরুতে যে বিজ্ঞাপনটি খুলেছিলেন তা নিয়ে প্রতিটি শর্ত লাইন বাই লাইন পড়ুন। প্রতিটি শর্তের জন্য আপনার সিভির কোন লাইনটি উত্তর দিচ্ছে, তা মিলিয়ে নিন। আমাদের বিজ্ঞাপনের শর্ত মেলানোর টুল প্রতিটি শর্ত ধরে ধরে এই কাজটি আপনার সাথে সম্পন্ন করতে পারে। কোনো শর্তের বিপরীতে সিভিতে যদি কিছুই না থাকে, তবে সত্য কোনো তথ্য যুক্ত করুন অথবা মেনে নিন যে ইন্টারভিউতে এ নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে।

এরপর উত্তরগুলো মুখে জোরে জোরে বলার মহড়া দিন। আমাদের Ausbildung ইন্টারভিউয়ের গাইড সিভির অভিজ্ঞতাগুলোকেই ছোট ছোট কথ্য জার্মান বাক্যে রূপান্তর করে অনুশীলন করায়, এবং Ausbildung প্রস্তুতির সেলফ-চেক টুলটি দেখায় এর পরে কোন ধাপটি যাচাই করতে হবে। পুরো Ausbildung প্রক্রিয়ায় আবেদনপত্রটি ঠিক কোথায় অবস্থান করে তা যদি এখনো গুছিয়ে উঠতে না পারেন, তবে আমাদের পূর্ণাঙ্গ Ausbildung গাইড পুরো পথনকশা তুলে ধরবে; আর আবেদন পাঠানোর পর কী ঘটে তা জানতে দেখতে পারেন ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সির Ausbildung আবেদন প্রক্রিয়ার পেজ।

কম্পিউটার থেকে ফাইলটি পাঠানোর আগে শেষবারের মতো একবার চোখ বুলিয়ে নিন: ডেস্কে জমা হওয়া স্তূপীকৃত অন্য সব সিভির ভিড়ে একজন নিয়োগকর্তা যেভাবে আপনার সিভিটি পড়তেন, ঠিক সেই দৃষ্টি নিয়ে পড়ুন। কোনো লাইন যদি নিয়োগকর্তার সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য না করে, তবে বুঝে নিন সেই লাইনটি অপ্রয়োজনে এমন একটি জায়গা দখল করে আছে যেখানে আরও কাজের কোনো কথা লেখা যেত।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

Ausbildung-এর জন্য জার্মান সিভিতে কি ছবি দেওয়া বাধ্যতামূলক?

না। ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সির (Bundesagentur für Arbeit) নিয়ম অনুযায়ী আবেদনে ছবি দেওয়া এখন আর বাধ্যতামূলক নয়, যদিও অনেক ক্ষেত্রে এখনো ছবি দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান এখন কোনো ছবি ছাড়া সম্পূর্ণ নাম-পরিচয়হীন (anonymised) সিভি চেয়ে থাকে। বিজ্ঞপ্তিতে ছবির ব্যাপারে কিছু বলা না থাকলে ছবি দেওয়া বা না দেওয়া দুটোই স্বাভাবিক। তবে বিজ্ঞাপনে যদি ছবি চাওয়া হয়, তবে অবশ্যই ছবি যুক্ত করবেন।

Ausbildung-এর সিভি কতটা বড় হওয়া উচিত?

এক A4 পৃষ্ঠা, আর খুব বেশি হলে সর্বোচ্চ দুই পৃষ্ঠা। ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সির নির্দেশনায় বলা হয়েছে টেবিল আকারে এক থেকে সর্বোচ্চ দুই A4 পৃষ্ঠা; আর Make it in Germany-এর মতে সিভি দুই পৃষ্ঠার বেশি হওয়া উচিত নয় এবং এক পৃষ্ঠা হওয়াই সবচেয়ে ভালো। ইন্টারনেটে অন্য কোথাও সিভির দৈর্ঘ্য আরও বড় হওয়ার যে পরামর্শ দেখা যায়, তা Ausbildung আবেদনের জন্য অফিশিয়াল নিয়মের সাথে মেলে না।

অন্য দেশের স্কুলের শিক্ষাগত যোগ্যতা সিভিতে কীভাবে লিখব?

স্কুলের নাম, শহর ও দেশের নাম, অধ্যয়নের বছরগুলো এবং সনদের মূল নাম হুবহু লিখুন। জার্মানির কোনো স্বীকৃতি প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ (recognition body) লিখিতভাবে সমমান নিশ্চিত না করা পর্যন্ত এটিকে জার্মান সনদের নামে অনুবাদ করবেন না। প্রয়োজনে সনদে কী কী বিষয় ছিল তা জানিয়ে একটি ছোট লাইন যোগ করতে পারেন।

Lebenslauf-এ কি স্বাক্ষর করতে হবে?

স্বাক্ষর করা একদম বাধ্যতামূলক নয়, তবে স্থান, তারিখ ও স্বাক্ষর থাকলে ভালো হয়; কারণ এটি প্রমাণ করে যে তথ্যগুলো হালনাগাদ এবং সঠিক। ইমেইল বা অনলাইনের মাধ্যমে আবেদনের ক্ষেত্রে কাগজে দস্তখত করে তা স্ক্যান বা ছবি তুলে সিভিতে বসিয়ে দিতে পারেন।