গাইড
আন্তর্জাতিক আবেদনকারীদের জন্য জার্মানিতে Ausbildung-এর শর্তাবলি
জার্মানিতে Ausbildung-এর প্রতিটি শর্ত এবং কোন কর্তৃপক্ষ তা যাচাই করে: শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স, জার্মান ভাষার লেভেল, চুক্তিনামা, Federal Employment Agency-র অনুমোদন, আর্থিক সংস্থান ও স্বাস্থ্যবীমা।
B1 Atlas · হালনাগাদ
জার্মানিতে Ausbildung-এর শর্তাবলি কোনো একক তালিকায় সীমাবদ্ধ নয়। কারণ এখানে তিনটি ভিন্ন কর্তৃপক্ষ আপনার আবেদন যাচাই করে এবং প্রত্যেকের নিজস্ব কিছু শর্ত রয়েছে।
কে সুযোগ পাবে তা ঠিক করে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বা স্কুল। ভিসা দেওয়া হবে কি না তা নির্ধারণ করে জার্মান দূতাবাস বা অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। আর ভিসা প্রক্রিয়ার ভেতরে কোম্পানি-ভিত্তিক ট্রেনিংয়ের আইনি অনুমোদন দেয় Federal Employment Agency। কোম্পানি চাইলেই সেটা কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা হয়ে যায় না; আবার জার্মানির রেসিডেন্স আইনের (Aufenthaltsgesetz) কোনো নিয়মও কোম্পানি নিজের ইচ্ছেমতো শিথিল করতে পারে না।
কোন কর্তৃপক্ষ কী যাচাই করে, এই পেজে প্রতিটি শর্তের সাথে তা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়েছে। পেশা নির্বাচন থেকে শুরু করে চুক্তি সই পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ ধারাবাহিকভাবে জানতে জার্মানিতে Ausbildung সংক্রান্ত গাইডটি দেখুন।
কোন কর্তৃপক্ষ কী যাচাই করে
| শর্ত | কোন কর্তৃপক্ষ যাচাই করে | সিদ্ধান্ত কিসের ওপর নির্ভর করে |
|---|---|---|
| স্কুল বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা | কোম্পানি বা স্কুল; আর ট্রেনিং খোঁজার ভিসার ক্ষেত্রে দূতাবাস | ট্রেনিংয়ের ধরন এবং সার্কুলার বা প্রোগ্রামে কী চাওয়া হয়েছে |
| বয়স | ট্রেনিংয়ের ক্ষেত্রে কোনো কর্তৃপক্ষই না | শুধু ট্রেনিং খোঁজার ভিসার ক্ষেত্রে বয়সসীমা রয়েছে |
| জার্মান ভাষার লেভেল | কোম্পানি বা স্কুল, এবং দূতাবাস | সার্কুলার এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আপনার ভাষা দক্ষতা যাচাই করেছে কি না |
| ট্রেনিংয়ের চুক্তিপত্র | কোম্পানি বা স্কুল, এবং পরবর্তীতে দূতাবাস | ভিসা ইস্যু করার আগে চুক্তিপত্র এবং ট্রেনিং পরিকল্পনা (Ausbildungsplan) |
| Federal Employment Agency-র অনুমোদন | এজেন্সি নিজে, ভিসা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে | কেবল কোম্পানি-ভিত্তিক ট্রেনিংয়ের ক্ষেত্রে, যা দপ্তরগুলোর অভ্যন্তরীণভাবে সম্পন্ন হয় |
| জীবনযাত্রার খরচের আর্থিক নিশ্চয়তা | দূতাবাস | ট্রেনিংয়ের ধরন এবং আপনি ট্রেনিং ভাতা (Vergütung) পাচ্ছেন কি না |
| স্বাস্থ্যবীমা | দূতাবাস, এবং পরবর্তীতে আপনার ট্রেনিং কোম্পানি | কোম্পানি-ভিত্তিক ট্রেনিংয়ে সাধারণত কাজের সাথেই বীমা থাকে; অন্য ক্ষেত্রে নয় |
| পাসপোর্ট এবং প্রবেশের বৈধ পথ | দূতাবাস ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষ | যেকোনো রেসিডেন্স পারমিটের জন্য প্রযোজ্য সাধারণ আইনি শর্তাবলি |
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) ও ইউরোপিয়ান ফ্রি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের (EFTA) নাগরিকদের জার্মানিতে এসে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ শুরু করতে কোনো ভিসার প্রয়োজন হয় না। নিচে ভিসা সংক্রান্ত যা কিছু বলা হয়েছে, তা অন্য সব দেশের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
আপনার কী ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে, তা নির্ভর করে আপনি কোন ধরনের Ausbildung-এ আবেদন করছেন তার ওপর।
কোম্পানি-ভিত্তিক ডুয়াল ট্রেনিং (Duale Ausbildung)। সাধারণ স্কুলে বাধ্যতামূলক পড়াশোনা শেষ করার পর, ডুয়াল ট্রেনিংয়ে প্রবেশের জন্য বাড়তি কোনো পূর্বশর্ত আইনে রাখা হয়নি। কোম্পানিতে ট্রেনিংয়ের জন্য জার্মান আইনে নির্দিষ্ট কোনো স্কুল সার্টিফিকেটের বাধ্যবাধকতা নেই, ফলে সার্টিফিকেট স্বীকৃতিরও (recognition) কোনো আইনি প্রয়োজন নেই। এখানে প্রতিটি কোম্পানি নিজেই ঠিক করে তারা আবেদনকারীর মধ্যে কী যোগ্যতা খুঁজছে।
স্কুল-ভিত্তিক ট্রেনিং (Schulische Ausbildung)। এ ক্ষেত্রে সাধারণ স্কুল শিক্ষা সম্পন্ন থাকতে হবে এবং সেই যোগ্যতার অফিশিয়াল স্বীকৃতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। আপনার দেশের সার্টিফিকেটকে জার্মানির কোন লেভেলের সমমান হতে হবে, তা সংশ্লিষ্ট পেশার ওপর নির্ভর করে।
ডুয়াল স্টাডিজ (Duales Studium), যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রির সাথে কোম্পানির ট্রেনিং একসাথে চলে, সেটির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির যোগ্যতা বা Hochschulzugangsberechtigung থাকতে হয়।
ট্রেনিংয়ের সুযোগ খোঁজার ভিসার জন্য আলাদা নিয়ম রয়েছে। জার্মানিতে এসে ট্রেনিং খুঁজতে হলে বিদেশে অবস্থিত কোনো জার্মান স্কুলের সার্টিফিকেট থাকতে হবে, অথবা এমন স্কুল সার্টিফিকেট থাকতে হবে যা দিয়ে জার্মানিতে কিংবা নিজের দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হওয়া যায়।
স্বীকৃতি নিয়ে দুটি সরকারি উৎসের তথ্যে অমিল
একটি সরকারি ওয়েবসাইটে স্পষ্ট বলা আছে যে ডুয়াল ট্রেনিংয়ের জন্য কোনো স্বীকৃতির প্রয়োজন নেই। অথচ জার্মানিতে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ নিয়ে Federal Employment Agency-র অফিশিয়াল ইংরেজি গাইডে বলা হয়েছে, আবেদনকারীদের অবশ্যই স্কুল সার্টিফিকেটের স্বীকৃতি নিতে হবে এবং তা ভোকেশনাল স্কুলে জমা দিতে হবে, যার জন্য নির্দিষ্ট ফি লাগে।
দুটিই জার্মানির বর্তমান সরকারি তথ্যসূত্র, তাই আন্দাজ করে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না। কোনো টাকা খরচ করার আগেই সরাসরি কোম্পানি এবং সংশ্লিষ্ট ভোকেশনাল স্কুলকে জিজ্ঞেস করে নিশ্চিত হয়ে নিন তাদের ঠিক কোন ডকুমেন্ট প্রয়োজন।
যদি সত্যিই স্বীকৃতির প্রয়োজন হয়, তবে জার্মানির ১৬টি অঙ্গরাজ্যের সংশ্লিষ্ট স্বীকৃতি প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ এই কাজ করে থাকে; anabin ডেটাবেস-এর মাধ্যমে আপনার জন্য প্রযোজ্য অফিসটি খুঁজে পাওয়া যাবে। তবে এখানে একটি বিষয়ে অনেকেই সমস্যায় পড়েন: জার্মানিতে কোনো নিবন্ধিত ঠিকানা (registered address) বা কোনো প্রতিষ্ঠানে ট্রেনিংয়ের নিশ্চিত নিশ্চয়তাপত্র না থাকা পর্যন্ত এই অফিসগুলো সাধারণত আবেদন গ্রহণ করে না। তাই চাকরিতে বা ট্রেনিংয়ে আবেদনের আগেই এই স্বীকৃতি করিয়ে নেওয়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না।
পেশাগত যোগ্যতার স্বীকৃতি (Professional recognition) সম্পূর্ণ আলাদা একটি বিষয়। Recognition in Germany পোর্টালটি মূলত তাঁদের জন্য, যাঁদের নিজ দেশে কোনো পেশাগত ডিগ্রি বা কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং জার্মানিতে সেই একই পেশায় সরাসরি চাকরি করতে চান। নতুন করে Ausbildung শুরু করার জন্য এর কোনো দরকার নেই।
বয়সসীমা
বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ বা Ausbildung-এর ক্ষেত্রে নিজস্ব কোনো বয়সসীমা নেই; এমনকি যাঁদের ইতিমধ্যে কোনো ডিগ্রি বা চাকরির অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাঁরাও সাধারণত এটি করতে পারেন।
তবে বয়স সংক্রান্ত দুটি নিয়ম প্রচলিত রয়েছে, যার কোনোটিই আসলে Ausbildung-এর নিজস্ব বয়সসীমা নয়।
প্রথমত, ট্রেনিংয়ের সুযোগ খুঁজতে জার্মানিতে প্রবেশের ভিসার জন্য শর্ত হলো আবেদনকারীর বয়স ৩৫ বছর পূর্ণ হওয়া চলবে না — অথবা Consular Services Portal-এর ভাষায় “আবেদনকারীর বয়স ৩৫ বা তার বেশি হওয়া যাবে না”। তবে আপনার যদি ইতিমধ্যে কোনো প্রতিষ্ঠানে ট্রেনিং নিশ্চিত হয়ে থাকে, তবে এই শর্ত আর প্রযোজ্য থাকে না, কারণ তখন আপনি সরাসরি ট্রেনিং ভিসার জন্য আবেদন করবেন।
দ্বিতীয় নিয়মটি মানুষ সবচেয়ে বেশি ভুল বোঝে। সরকারি নির্দেশনায় ৪৫ বছরের বেশি বয়সী আবেদনকারীদের সতর্ক করে বলা হয়েছে যে ভিসার জন্য তাঁদের একটি নির্দিষ্ট সর্বনিম্ন বেতন বা পেনশনের নিশ্চয়তার শর্ত মাথায় রাখতে হবে — কারণ Ausbildung-এর ভাতা সাধারণত সেই নির্ধারিত বেতনের চেয়ে অনেক কম হয়। তবে আইনের মূল ধারায় এই বেতনের শর্তটি প্রথমবার দক্ষ কর্মীর পারমিট (skilled-worker permit) পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করা হয়েছে, যা আপনার প্রয়োজন হবে ট্রেনিং শেষ করার পর, ট্রেনিং চলাকালীন নয়। আপনার বয়স যদি ৪৫-এর বেশি হয়, তবে এই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিন এবং নিজে থেকে কোনো কিছু ধরে না নিয়ে আপনার এলাকার জার্মান দূতাবাস আপনার ক্ষেত্রে কী নিয়ম প্রযোজ্য করছে তা সরাসরি জেনে নিন।
জার্মান ভাষা
আইন এবং সরকারি নির্দেশনাগুলোতে একই শর্তকে বিভিন্নভাবে তুলে ধরা হয়েছে, তাই দুটি দিকই জেনে রাখা ভালো।
জার্মান রেসিডেন্স আইনের আওতায় দক্ষ বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত জার্মান ভাষার প্রমাণ দেখাতে হয় — যদি না সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আগেই আপনার ভাষা পরীক্ষা করে থাকে অথবা আপনি জার্মানিতে এসে কোনো প্রস্তুতিমূলক ভাষা কোর্সে অংশ নিচ্ছেন। আইনে সরাসরি B1 না বলে “পর্যাপ্ত” (sufficient) শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।
তবে সরকারি নির্দেশিকাগুলোতে স্পষ্ট করে B1 লেভেলের কথাই বলা হয়েছে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ভিসার জন্য CEFR অনুযায়ী B1 লেভেল থাকা প্রয়োজন। প্রশিক্ষণের ধরনভেদে ভাষার চাহিদায় কিছুটা ভিন্নতা থাকতে পারে, যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ভোকেশনাল স্কুল বা কোম্পানি নিশ্চিত করতে পারে। আর ট্রেনিং খোঁজার ভিসার জন্য B1 সার্টিফিকেট থাকা পুরোপুরি বাধ্যতামূলক।
Federal Employment Agency-র ইংরেজি গাইড বিষয়টি খুব সহজ করে বলেছে: ট্রেনিংয়ের জন্য আপনার যদি ভিসার প্রয়োজন হয়, তবে সাধারণত B1 লেভেল লাগবেই।
কোন কোন সার্টিফিকেট অফিশিয়াল প্রমাণ হিসেবে গৃহীত হবে, সেটির একটি নির্দিষ্ট তালিকা রয়েছে। জার্মানির পররাষ্ট্র দপ্তর গ্রহণযোগ্য পরীক্ষা পরিচালনাকারীদের নাম প্রকাশ করেছে। অফিশিয়াল Ausbildung ওয়েবসাইটের গাইডে এই তালিকা তুলে ধরা হয়েছে এবং সেখানে স্পষ্ট বলা আছে যে সাধারণ ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুলের সার্টিফিকেট ভিসার জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।
ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় ভাষা থাকা মানেই কিন্তু কোম্পানির চাহিদা পূরণ হওয়া নয়। অনেক প্রতিষ্ঠান সার্কুলারে B2 চাইতে পারে; তাছাড়া ইন্টারভিউ, ভোকেশনাল স্কুলের পড়াশোনা এবং ফাইনাল পরীক্ষা — সবই হয় জার্মান ভাষায়। আপনার ক্ষেত্রে B1 যথেষ্ট কি না, তা আলাদা একটি গাইডে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
ট্রেনিংয়ের চুক্তিপত্র
ট্রেনিং ভিসার জন্য কোম্পানি বা স্কুলের সাথে সম্পাদিত একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তিপত্র এবং তার সাথে একটি বিস্তারিত ট্রেনিং পরিকল্পনা (Ausbildungsplan) প্রয়োজন হয়।
কোম্পানির সাথে চুক্তিতে কী কী তথ্য থাকতে হবে তা আইনে নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে। চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই এবং ট্রেনিং শুরুর আগেই প্রতিষ্ঠানকে এই মৌলিক বিষয়গুলো লিখিত আকারে নথিভুক্ত করে আপনার হাতে তুলে দিতে হবে। এই তালিকায় রয়েছে:
- উভয় পক্ষের নাম ও পূর্ণ ঠিকানা;
- প্রশিক্ষণের ধরন, পাঠ্যক্রম ও সময়ের কাঠামো এবং প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য — বিশেষ করে কোন নির্দিষ্ট পেশার জন্য আপনাকে প্রস্তুত করা হচ্ছে;
- ট্রেনিং শুরুর তারিখ এবং মোট মেয়াদকাল;
- মূল কর্মস্থল এবং মূল ক্যাম্পাসের বাইরের কোনো ট্রেনিং থাকলে তার বিবরণ;
- দৈনিক নিয়মিত কাজের বা প্রশিক্ষণের সময়সীমা;
- প্রবেশন পিরিয়ডের (শিক্ষানবিস কাল) মেয়াদ;
- ট্রেনিং ভাতার (Vergütung) পরিশোধের নিয়ম ও মোট পরিমাণ, এবং ভাতার একাধিক অংশ থাকলে তার বিস্তারিত;
- অতিরিক্ত সময় কাজ করলে (ওভারটাইম) তার ভাতা বা সমপরিমাণ ছুটির নিয়ম;
- বাৎসরিক মোট ছুটির পরিমাণ;
- যে যে শর্তে চুক্তি বাতিল বা সমাপ্ত করা যেতে পারে;
- প্রযোজ্য যৌথ চুক্তি (Tarifvertrag) বা অভ্যন্তরীণ প্রাতিষ্ঠানিক চুক্তির সাধারণ উল্লেখ;
- ট্রেনিং চলাকালীন যে কাজের রেকর্ড বা রিপোর্ট বই (Berichtsheft) আপনাকে রাখতে হবে, তার ধরন।
চুক্তিতে সই করার আগে এই তালিকার সাথে মিলিয়ে প্রতিটি বিষয় দেখে নিন। কোনো তথ্য না থাকলে ঘাবড়ে না গিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্ন করুন; প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট চেম্বার (IHK/HWK) বা Federal Employment Agency-র কাছ থেকেও কোনো ধারার ব্যাখ্যা জেনে নিতে পারেন।
একটি আইনি সুরক্ষার কথা আগে থেকেই জেনে রাখা ভালো: আপনার নিজের কোনো দোষ ছাড়া অন্য কোনো কারণে ট্রেনিং বাতিল, প্রত্যাহার বা মেয়াদ কমানোর পরিস্থিতি তৈরি হলে, নতুন কোনো প্রতিষ্ঠানে ট্রেনিংয়ের সুযোগ খোঁজার জন্য আপনাকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় দিতে হবে।
Federal Employment Agency-র অনুমোদন
কোম্পানি-ভিত্তিক ট্রেনিংয়ের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম শর্ত হলো Federal Employment Agency কর্তৃক আপনার কর্মসংস্থানের অনুমোদন দেওয়া — যদি না জার্মানির কর্মসংস্থান অধ্যাদেশ বা কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তির অধীনে এই অনুমোদন থেকে অব্যাহতি দেওয়া থাকে।
এই অনুমোদনের জন্য আপনাকে আলাদা করে কোথাও আবেদন করতে হয় না। এটি ভিসা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট জার্মান সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণভাবে সম্পন্ন হয়, এতে আপনার বাড়তি কোনো পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই। এই প্রক্রিয়ায় মূলত যাচাই করা হয় যে জার্মানির স্থানীয় কর্মীদের তুলনায় আপনাকে কম সুযোগ-সুবিধা বা প্রতিকূল শর্তে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে কি না। বেতন, কাজের সময় ও অন্যান্য শর্তাবলির তথ্য সরকারকে জানানোর দায়িত্ব পুরোপুরি আপনার নিয়োগকর্তা বা কোম্পানির, আপনার নয়।
স্কুল-ভিত্তিক ট্রেনিংয়ে এ ধরনের কোনো অভ্যন্তরীণ অনুমোদনের ধাপ থাকে না। তবে সে ক্ষেত্রে কোর্সটির নিজস্ব কিছু মানদণ্ড থাকতে হয়: কোর্সটি সম্পন্ন করলে কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের স্বীকৃত পেশাগত ডিগ্রি অর্জিত হতে হবে, এবং প্রোগ্রামটি কেবল নির্দিষ্ট কোনো একটি দেশের নাগরিকদের উদ্দেশ্যে তৈরি করা যাবে না।
জীবনযাত্রার খরচের আর্থিক নিশ্চয়তা
জার্মান আইনে জীবনযাত্রার খরচের নিশ্চয়তা বলতে বোঝায় যে সরকারের কোনো সামাজিক ভাতা বা অনুদানের ওপর নির্ভর না করে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবীমাসহ আপনি নিজের সমস্ত খরচ বহন করতে পারবেন। ট্রেনিং পারমিটের ক্ষেত্রে এই খরচের মানদণ্ড আইনে নির্ধারিত: ফেডারেল ট্রেনিং অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাক্ট অনুযায়ী মাসিক প্রয়োজনীয় খরচের হিসাব থেকেই অফিশিয়াল অঙ্কগুলো নির্ধারণ করা হয়।
১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে কার্যকর হওয়া সর্বনিম্ন মাসিক খরচের হিসাব নিচে দেওয়া হলো:
| বসবাসের উদ্দেশ্য | প্রতি মাসে সর্বনিম্ন অঙ্ক |
|---|---|
| কোম্পানি-ভিত্তিক বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ | গ্রস ১,০৪৮ ইউরো, অথবা নেট ৮২২ ইউরো |
| স্কুল-ভিত্তিক বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ | ৯৫৯ ইউরো |
| কোম্পানি-ভিত্তিক উচ্চতর প্রশিক্ষণ | গ্রস ১,০৯০ ইউরো, অথবা নেট ৮৫৫ ইউরো |
| স্কুল-ভিত্তিক উচ্চতর প্রশিক্ষণ | ৯৯২ ইউরো |
| বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের স্থান খোঁজা | ১,০৯১ ইউরো |
আপনার উদ্দেশ্যের সাথে মিল থাকা সারিটি দেখুন। ইন্টারনেটে অনেক ওয়েবসাইট সব ধরনের Ausbildung-এর জন্য একটি সাধারণ অঙ্ক উল্লেখ করে, যা বেশিরভাগ পাঠকের ক্ষেত্রেই সঠিক তথ্য দেয় না।
এই খরচের প্রমাণ কীভাবে দেখাবেন, তা নির্ভর করে আপনার ট্রেনিংয়ের ধরনের ওপর। কোম্পানি-ভিত্তিক ট্রেনিংয়ে আপনার মাসিক ভাতাই (Vergütung) মূল প্রমাণ: তালিকার নির্ধারিত অঙ্কের সমান বা বেশি ভাতা পেলে আপনার আর্থিক নিশ্চয়তার শর্ত পূরণ হয়ে যায়। আর ভাতা যদি নির্ধারিত অঙ্কের চেয়ে কম হয়, তবে বাকি ঘাটতিটুকু পূরণ করতে হয় ব্লকড ব্যাংক অ্যাকাউন্ট (Sperrkonto) অথবা স্পনসরশিপের আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতিপত্র বা Verpflichtungserklärung দিয়ে — যার মাধ্যমে জার্মানির কোনো ব্যক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে আপনার যাবতীয় খরচ বহনের আইনি দায়িত্ব নেন। স্কুল-ভিত্তিক ট্রেনিং ও ট্রেনিং খোঁজার ভিসায় কোনো মাসিক ভাতা থাকে না; ফলে ব্লকড অ্যাকাউন্ট, Verpflichtungserklärung কিংবা কোনো বৃত্তির মাধ্যমেই পুরো খরচের প্রমাণ দেখাতে হয়। অ্যাকাউন্ট কীভাবে কাজ করে এবং আপনার প্রয়োজনীয় মাসগুলোর জন্য মোট কত টাকা লাগবে, তা ব্লকড অ্যাকাউন্টের গাইডে বিস্তারিত রয়েছে।
উভয় পারমিটেই মূল ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত পার্ট-টাইম কাজ করার সুযোগ থাকে, এবং ট্রেনিং খোঁজার ভিসার ক্ষেত্রে মোট দুই সপ্তাহ পর্যন্ত ট্রায়াল হিসেবে কাজ করার সুযোগ থাকে। তবে Federal Employment Agency স্পষ্ট করেই সতর্ক করেছে: কেবল ট্রেনিং ভাতার ওপর ভরসা করে থাকা অনেক সময়ই কঠিন হতে পারে, তাই আগে থেকেই কিছু সঞ্চয়ের পরিকল্পনা রাখুন।
এই নির্ধারিত অঙ্কগুলো সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই অ্যাকাউন্ট খোলা বা টাকা ট্রান্সফার করার আগে Consular Services Portal থেকে সর্বশেষ বর্তমান অঙ্কটি দেখে নিন।
স্বাস্থ্যবীমা
স্বাস্থ্যবীমা আলাদা কোনো আনুষ্ঠানিক শর্ত নয়, এটি জীবনযাত্রার খরচের নিশ্চয়তারই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। কারণ উপযুক্ত স্বাস্থ্যবীমা ছাড়া কোনো ব্যক্তির জীবনযাত্রার খরচ নিশ্চিত হয়েছে বলে গণ্য করা হয় না — আর জার্মানির সরকারি স্বাস্থ্যবীমার আওতাভুক্ত থাকাই উপযুক্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
বাস্তবে আপনার ট্রেনিংয়ের ধরনের ওপর নির্ভর করে এই বীমা কে করবে। আপনার অবস্থানের উদ্দেশ্যের ওপর ভিত্তি করে আপনি হয়তো নিয়োগকর্তা বা কোম্পানির মাধ্যমে বীমার আওতায় থাকবেন, অথবা নিজ দায়িত্বে এই বীমার ব্যবস্থা করতে হবে। কোম্পানি-ভিত্তিক প্রশিক্ষণার্থীরা মূলত কর্মী হিসেবে গণ্য হন, তাই তাঁদের কর্মসংস্থানের অংশ হিসেবেই স্বাভাবিকভাবে কোম্পানি বীমার ব্যবস্থা করে। তবে স্কুল-ভিত্তিক ট্রেনিং বা ট্রেনিং খোঁজার সময়ে এই দায়িত্ব সম্পূর্ণ আপনার নিজের।
জার্মানিতে পা রাখা থেকে শুরু করে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ বা প্রশিক্ষণ শুরু হওয়া পর্যন্ত মধ্যবর্তী দিনগুলোর জন্য নিজ দেশ থেকেই একটি ট্রাভেল হেলথ ইন্স্যুরেন্স করিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে নির্দেশনায়। তবে এই ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্সের কী কী নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে, তা সংশ্লিষ্ট জার্মান দূতাবাস থেকে জেনে নিন। কাগজপত্র প্রস্তুত করার সময়েই এই তথ্য জেনে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে, কারণ দূতাবাসভেদে নিয়মে ভিন্নতা থাকতে পারে।
জার্মান স্বাস্থ্যবীমার সাথেই কেয়ার ইন্স্যুরেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকে, তাই এটি আলাদা করে কেনার প্রয়োজন নেই।
যেকোনো রেসিডেন্স পারমিটের জন্য প্রযোজ্য সাধারণ শর্তাবলি
ওপরের সমস্ত নিয়মের পাশাপাশি জার্মানির যেকোনো ধরনের রেসিডেন্স পারমিট পাওয়ার কিছু মৌলিক শর্ত রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান হলো: জীবনযাত্রার খরচের নিশ্চয়তা, পরিচয় ও নাগরিকত্বের স্পষ্ট প্রমাণ, জার্মানি থেকে বহিষ্কার করার মতো কোনো কারণ না থাকা এবং একটি বৈধ পাসপোর্ট।
এছাড়া আপনাকে অবশ্যই সঠিক উদ্দেশ্য অনুযায়ী ইস্যু করা ভিসা নিয়ে জার্মানিতে প্রবেশ করতে হবে এবং ভিসা আবেদনে সব তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে হবে। এক উদ্দেশ্যে ভিসা নিয়ে এসে পরে অন্য ক্যাটাগরিতে পরিবর্তনের সুযোগ আইনে সাধারণত থাকে না — হাতে গোনা কিছু বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া, যা ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে বিচার করা হয়।
ট্রেনিং ভিসা সাধারণত প্রাথমিকভাবে এক বছরের জন্য দেওয়া হয়। কিছু কিছু জার্মান দূতাবাস ভিসা আবেদন জমা নেওয়ার জন্য বহিরাগত সার্ভিস প্রোভাইডারের সাহায্য নেয়, যারা ভিসা ফির পাশাপাশি আলাদা সেবা ফি নিয়ে থাকে। সেই ফি ভিসা ফির অতিরিক্ত, এবং আবেদন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ার সময়ই আপনি জানতে পারবেন আপনার দূতাবাসে এই নিয়ম প্রযোজ্য কি না।
যেসব বিষয় আইনি নিয়ম নয়, কেবল প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পছন্দ
ইন্টারনেটে ছড়িয়ে থাকা এমন অনেক শর্তের কথা শোনা যায় যেগুলো একেবারে ভিত্তিহীন নয়, তবে সেগুলো আইনের অংশ নয় — বরং নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব পছন্দ। এগুলোকে যোগ্যতার আইনি মানদণ্ড হিসেবে না দেখে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার তথ্য হিসেবে বিবেচনায় নিন।
- মাধ্যমিক বা ইন্টারমিডিয়েট সার্টিফিকেট। বাস্তবে অনেক কোম্পানি এই ধরনের সার্টিফিকেট চেয়ে থাকে, এবং জনপ্রিয় বা জটিল পেশাগুলোতে আরও ভালো শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হতে পারে। তবে এটি পুরোপুরি কোম্পানির নিজস্ব সিদ্ধান্ত, ডুয়াল ট্রেনিংয়ের কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নয়।
- তরুণ বা কমবয়সী হওয়া। Federal Employment Agency-র তথ্যমতে, জার্মানিতে সাধারণত স্কুল শেষ করে তরুণরাই বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে যোগ দেয়। এটি সাধারণ আবেদনকারীদের বাস্তব চিত্র প্রকাশ করে, কিন্তু এর ফলে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বয়সসীমা তৈরি হয় না।
- B2 লেভেলের জার্মান ভাষা। কোনো কোনো কোম্পানি হয়তো B2 চাইতে পারে। তবে ভিসার আইনি বিধানে সাধারণত B1 লেভেলের কথাই বলা আছে।
- নির্দিষ্ট কাগজের বাঁধাধরা তালিকা। কোম্পানি, স্কুল, দূতাবাস ও পেশাভেদে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের চাহিদা আলাদা হয়। তাই ইন্টারনেটের সাধারণ কোনো চেকলিস্ট না দেখে সার্কুলার ও আপনার দূতাবাসের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট দেখে নিজের তালিকা সাজান।
এসব পছন্দ যে অপ্রয়োজনীয়, তা কিন্তু নয়। তবে দুটোর মধ্যে পার্থক্য বুঝতে হবে: আইনি শর্ত পূরণ করতে হয় আবেদনের যোগ্যতা অর্জনের জন্য, আর কোম্পানির পছন্দগুলো পূরণ করতে হয় অন্যদের সাথে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার জন্য।
এই তালিকার সাথে নিজের প্রস্তুতি মিলিয়ে দেখুন
একটি বাস্তব সার্কুলার বা প্রোগ্রামের বিবরণ এবং আপনার অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত জার্মান দূতাবাসের ওয়েবসাইটটি পাশাপাশি খুলুন। এরপর ওপরের তালিকার প্রতিটি শর্তের সাথে মিলিয়ে লিখে ফেলুন আপনার কাছে ইতিমধ্যে কোন কোন প্রমাণ রয়েছে এবং কোনগুলো এখনো জোগাড় করতে হবে।
যে যে ঘাটতিগুলো বের হবে, সেটাই হবে আপনার কাজের আসল পরিকল্পনা। সার্টিফিকেটের অভাব থাকলে পরীক্ষার তারিখ বুক করুন। স্কুল সার্টিফিকেটের বিষয়ে সন্দেহ থাকলে কোম্পানি ও ভোকেশনাল স্কুলকে সরাসরি যোগাযোগ করে পরিষ্কার হয়ে নিন। টাকার অঙ্কে কোনো বিভ্রান্তি থাকলে অর্থ লেনদেনের আগে Consular Services Portal থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।
Ausbildung প্রস্তুতি যাচাইয়ের সেলফ-চেক টুলটি আপনার এই তথ্যগুলোকে একটি সুশৃঙ্খল কর্মপরিকল্পনায় রূপ দেবে, যা ব্রাউজারেই সংরক্ষিত থাকে। আর প্রমাণের চেয়ে যদি সময়ের পরিকল্পনায় পিছিয়ে থাকেন, তবে Ausbildung আবেদনের টাইমলাইন প্ল্যানারটি আপনার কাঙ্ক্ষিত সেশনকে সামনে রেখে শুরু থেকে সময় মেপে দেবে।
এই পেজে অফিশিয়াল নিয়মকানুনগুলো বিস্তারিতভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে আপনার আবেদনটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আপনার এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত জার্মান দূতাবাস বা অভিবাসন কর্তৃপক্ষ।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর
জার্মানিতে Ausbildung করার জন্য কী কী শর্ত পূরণ করতে হয়?
এখানে তিনটি আলাদা কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব শর্ত যাচাই করে। কোম্পানি বা স্কুল ঠিক করে তারা কাকে সুযোগ দেবে। জার্মান দূতাবাস বা অভিবাসন কর্তৃপক্ষ ভিসার শর্তগুলো দেখে — যার মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট ট্রেনিংয়ের স্থান, প্রয়োজনীয় জার্মান ভাষা এবং স্বাস্থ্যবীমাসহ জীবনযাত্রার খরচের নিশ্চয়তা। কোম্পানি-ভিত্তিক ট্রেনিংয়ের ক্ষেত্রে ভিসার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে Federal Employment Agency অনুমোদন দেয়। এক পক্ষের দেওয়া কোনো শর্ত অন্য পক্ষের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয় না।
জার্মানিতে Ausbildung-এর ক্ষেত্রে কি কোনো বয়সের সীমা আছে?
মূল বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে বয়সের কোনো বাধা নেই। তবে ট্রেনিংয়ের সুযোগ খোঁজার জন্য জার্মানিতে আসার যে আলাদা ভিসা রয়েছে, সেটির জন্য একটি বয়সসীমা আছে: আপনার বয়স ৩৫ পূর্ণ হওয়া চলবে না। এছাড়া ৪৫ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য বেতনের একটি আলাদা সীমা রয়েছে, তবে তা ট্রেনিং চলাকালীন নয়, ট্রেনিং শেষের দক্ষ কর্মীর পারমিটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
Ausbildung ভিসার জন্য কত টাকার আর্থিক নিশ্চয়তা দেখাতে হয়?
১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে কার্যকর হওয়া অফিশিয়াল নিয়ম অনুযায়ী মাসিক সর্বনিম্ন খরচের অঙ্কগুলো হলো: কোম্পানি-ভিত্তিক ট্রেনিংয়ের ক্ষেত্রে গ্রস ১,০৪৮ ইউরো (বা নেট ৮২২ ইউরো), স্কুল-ভিত্তিক ট্রেনিংয়ের জন্য ৯৫৯ ইউরো এবং ট্রেনিং খোঁজার ভিসার ক্ষেত্রে ১,০৯১ ইউরো। ট্রেনিং থেকে পাওয়া ভাতা (Vergütung) এই হিসাবে যুক্ত হয়; ভাতার ঘাটতি থাকলে ব্লকড অ্যাকাউন্ট বা Verpflichtungserklärung দিয়ে তা পূরণ করা যায়। কোনো টাকা জমা বা ট্রান্সফার করার আগে অফিশিয়াল পেজে বর্তমান অঙ্কটি দেখে নিন।
ডুয়াল Ausbildung-এর জন্য স্কুলের সার্টিফিকেট কি স্বীকৃতি (recognition) করাতে হবে?
জার্মানির সরকারি সূত্রগুলোর বক্তব্যে কিছুটা অমিল রয়েছে, তাই সরাসরি সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও ভোকেশনাল স্কুলে যোগাযোগ করুন। একটি সরকারি পেজে বলা আছে, কোম্পানি-ভিত্তিক ডুয়াল ট্রেনিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্কুল সার্টিফিকেটের আইনি বাধ্যবাধকতা নেই, ফলে স্বীকৃতিরও দরকার হয় না — তবে কোম্পানি চাইলে স্বীকৃতি চাইতে পারে। অন্যদিকে Federal Employment Agency-র ইংরেজি গাইডে বলা হয়েছে, সার্টিফিকেট স্বীকৃতি করিয়ে ভোকেশনাল স্কুলে জমা দিতে হবে। তবে স্কুল-ভিত্তিক ট্রেনিংয়ের ক্ষেত্রে স্কুল সার্টিফিকেটের অফিশিয়াল স্বীকৃতি সবসময়ই বাধ্যতামূলক।