গাইড

ভারত থেকে জার্মানিতে Ausbildung: আবেদনের সঠিক নিয়ম ও ভিসা গাইড

ভারত থেকে Ausbildung-এর আবেদন সাজান সঠিক ধাপে: আসল ট্রেনিংয়ের পদ খোঁজা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও জার্মানের লেভেল যাচাই, রিক্রুটার যাচাই এবং অফিশিয়াল ভিসা প্রক্রিয়া অনুসরণ করা।

B1 Atlas · হালনাগাদ

আগে থেকে জার্মানিতে না গিয়েও ভারত থেকেই আপনি জার্মানিতে Ausbildung-এর জন্য সরাসরি আবেদন করতে পারেন। প্রথমে একটি সুনির্দিষ্ট পেশা ও প্রশিক্ষণের ধরন বেছে নিন, তারপর সরাসরি কোম্পানি বা স্কুলে আবেদন করুন। কোথাও ট্রেনিংয়ের সুযোগ নিশ্চিত হওয়ার পর ভারতের জার্মান দূতাবাসের (German Missions in India) অফিশিয়াল ভিসা প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন।

কোনো কনসালটেন্সির দেওয়া ঢালাও যোগ্যতার তালিকা দিয়ে প্রস্তুতি শুরু করবেন না। ডুয়াল এবং স্কুলভিত্তিক প্রশিক্ষণের শর্তাবলি সম্পূর্ণ আলাদা। আপনি সুযোগ পাবেন কি না তা ঠিক করে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বা স্কুল; আপনার স্কুলের কাগজপত্র ঠিক আছে কি না তা মূল্যায়ন করতে পারে একটি সরকারি স্বীকৃতি কর্তৃপক্ষ (recognition authority); আর ভিসা পাবেন কি না সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় জার্মান দূতাবাস।

The India-to-Germany route

  1. একটি নির্দিষ্ট পেশা বেছে নিন এবং এর প্রশিক্ষণ ডুয়াল নাকি স্কুলভিত্তিক, তা নিশ্চিত করুন।
  2. আপনার ভারতীয় শিক্ষাগত যোগ্যতার বিপরীতে কোম্পানি বা স্কুল ঠিক কী চেয়েছে, তা যাচাই করুন।
  3. আবেদনপত্র, ইন্টারভিউ, মূল কাজ এবং ভোকেশনাল স্কুলে ব্যবহার করার মতো বাস্তব কাজের জার্মান শিখে নিন।
  4. আগেভাগে খোঁজ শুরু করুন এবং বর্তমান সক্রিয় সার্কুলারগুলোতে আবেদন করুন।
  5. যেকোনো রিক্রুটারকে যাচাই করুন এবং সংশ্লিষ্ট জার্মান নিয়োগকর্তা বা স্কুলের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে অফার নিশ্চিত করুন।
  6. চুক্তিপত্র বা স্কুলে ভর্তির নিশ্চয়তা পাওয়ার পর অফিশিয়াল ভিসা পেজ ও পোর্টালের প্রশ্নপত্র পূরণ শুরু করুন।

আমাদের জার্মানিতে Ausbildung সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ গাইড-এ ডুয়াল ও স্কুলভিত্তিক প্রশিক্ষণ, পেশা নির্বাচন, আবেদনের সময় নির্ধারণ এবং দুটি ভিসা প্রক্রিয়া বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আর এই পাতায় আলোকপাত করা হয়েছে বিশেষ করে ভারত থেকে আবেদন করার সময় যে অতিরিক্ত বিষয় ও অফিশিয়াল ধাপগুলোর মুখোমুখি হতে হয় সেগুলোর ওপর।

1. Choose the training before you collect documents

Ausbildung হলো কোনো সুনির্দিষ্ট পেশার বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ। ডুয়াল ট্রেনিংয়ে আপনি কোনো কোম্পানির সাথে চুক্তি করেন এবং একই সাথে Berufsschule অর্থাৎ ভোকেশনাল স্কুলেও ক্লাস করেন। আর স্কুলভিত্তিক ট্রেনিংয়ে পুরো প্রোগ্রামটি পরিচালনা করে কোনো ভোকেশনাল স্কুল বা কলেজ।

এই পার্থক্যের কারণেই বদলে যায় আপনি কোথায় আবেদন করবেন এবং আপনার ভারতীয় স্কুল সনদ কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের ভোকেশনাল ট্রেনিংয়ের শর্তাবলি পেজ-এ এমন দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে যা সাধারণ চেকলিস্টগুলোতে প্রায়ই এড়িয়ে যাওয়া হয়:

  • জার্মান আইনে প্রতিটি ডুয়াল Ausbildung-এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্কুল সনদের বাধ্যবাধকতা নেই। কোম্পানি নিজেই ঠিক করে তারা কী ধরনের যোগ্যতা চায়। তবে কোম্পানি যদি নির্দিষ্ট কোনো জার্মান সমমান দাবি করে, তবে সনদের স্বীকৃতির (recognition) প্রয়োজন হতে পারে।
  • স্কুলভিত্তিক কোর্সের ক্ষেত্রে সাধারণ স্কুল শিক্ষা সম্পন্ন থাকতে হয় এবং সেই সনদের আনুষ্ঠানিক সরকারি স্বীকৃতির প্রয়োজন হয়। কোন জার্মান সনদের সমমান প্রয়োজন হবে, তা নির্ভর করে নির্দিষ্ট কোর্সের ওপর।

তাই কাগজপত্র জোগাড় করার আগেই পেশা, প্রশিক্ষণের ধরন এবং কোন ফেডারেল রাজ্যে ট্রেনিং হবে তা চিহ্নিত করুন। পেশা নির্বাচনে দ্বিধা থাকলে আগে আমাদের Ausbildung ক্ষেত্রগুলোর বিবরণ থেকে কাজের ধরন ও পরিবেশ তুলনা করে নিন। কোম্পানি বা স্কুল যদি আপনার সনদের সরকারি স্বীকৃতি দাবি করে, তবে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের নিয়ম মেনে চলতে হবে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণত জার্মানিতে নিবন্ধিত ঠিকানা অথবা কোনো প্রতিষ্ঠানে নিশ্চিত সুযোগের প্রমাণ ছাড়া আগেভাগে স্বীকৃতির আবেদন করা যায় না। তাই সনদ স্বীকৃতি বা অনুবাদের পেছনে খরচ করার আগে সেই নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের বর্তমান নিয়মগুলো ভালো করে জেনে নিন।

2. Check your school records against each vacancy

আপনার পড়াশোনা তাদের কোর্সের সাথে মানানসই কি না, তা সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তা বা স্কুলই বিবেচনা করবে। বাঁধাধরা একটি আবেদনপত্র তৈরি করার আগে বর্তমান কোনো সার্কুলার ভালো করে পড়ে নিন।

প্রতিটি পদের জন্য নিচের এই পাঁচটি তথ্য নোট করে রাখুন:

  • প্রয়োজনীয় স্কুল সনদ ও পঠিত বিষয়াবলি;
  • জার্মান ভাষার কাঙ্ক্ষিত লেভেল এবং কোন ধরনের প্রমাণ তারা গ্রহণ করে;
  • প্রশিক্ষণের শুরুর তারিখ এবং আবেদনের শেষ সময়;
  • কী কী ফরম্যাটে সিভি, চিঠি, সনদ বা অনুবাদ পাঠাতে বলা হয়েছে;
  • আবেদনের ভাষা এবং কোন মাধ্যমে তা জমা দিতে হবে।

অফিশিয়াল ভোকেশনাল ট্রেনিং সার্চ গাইড-এ বিভিন্ন পেশার বিবরণ এবং সরকারি সার্চ পোর্টালের লিংক রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে সাধারণত ট্রেনিং শুরুর ১২ থেকে ১৮ মাস আগে থেকেই সার্কুলার প্রকাশ পেতে থাকে। Federal Employment Agency-এর আবেদন সংক্রান্ত গাইড-এও প্রার্থীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে প্রতিটি সার্কুলার থেকে কাজের দায়িত্ব, যোগ্যতা, আবেদনের শেষ সময়, মাধ্যম, ভাতার পরিমাণ এবং যোগাযোগের ব্যক্তির নাম ভালো করে দেখে নিতে।

আপনার দশম ও দ্বাদশ শ্রেণীর (Class 10 ও 12) মার্কশিটও পরবর্তীতে কাজে লাগবে। ভারতের জার্মান মিশনের বর্তমান পেজে ভোকেশনাল ট্রেনিং ভিসার জন্য আপলোড করার তালিকায় ১০ম ও ১২শ শ্রেণীর মার্কশিটের কথা বলা আছে। তবে এই আপলোড তালিকায় থাকা মানেই কিন্তু এই নয় যে নির্দিষ্ট কোনো মার্কস পেলেই নিয়োগকর্তা আপনাকে নিশ্চিতভাবে ভর্তি করে নেবে।

সার্কুলারের তারিখগুলোর সাথে মিলিয়ে ভাষা শেখা, কাগজপত্র গোছানো এবং ভিসার প্রক্রিয়া সমন্বয় করতে আমাদের Ausbildung আবেদনের সময়রেখা ব্যবহার করুন।

3. Treat German as a working skill, not one certificate number

ট্রেনিংয়ের জায়গা এবং ভিসার আবেদন — দুটি জায়গায় কিন্তু ভাষার বিষয়টিকে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে যাচাই করা হয়।

ট্রেনিংয়ের ক্ষেত্রে সার্কুলারের লেখা শব্দগুলো খেয়াল করুন। ভিসা পেজে যা বলা আছে, কোম্পানি বা স্কুল তার চেয়েও ভালো জার্মান চাইতে পারে। তাছাড়া ইন্টারভিউ দেওয়া, কর্মক্ষেত্রে কাজ করা এবং ভোকেশনাল স্কুলে ক্লাস বোঝার জন্য বাস্তব কাজের জার্মান প্রয়োজন হবে।

ভিসার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় বলা হয়েছে আবেদনকারীদের সাধারণত অন্তত B1 লেভেল দেখানোর প্রস্তুতি থাকতে হবে। তবে ভারতের জার্মান দূতাবাসের ভোকেশনাল ট্রেনিং পেজ-এ আরও সুনির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ পেশাগত প্রশিক্ষণে অন্তত A2 এবং চিকিৎসাবিষয়ক পেশায় অন্তত B1 প্রয়োজন হয়।

ভারত বিষয়ক পেজে জার্মান ভাষা প্রমাণের কয়েকটি উপায় তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বীকৃত কোনো সার্টিফিকেট, কোম্পানি বা স্কুল কর্তৃক লিখিত ভাষা যাচাইয়ের প্রমাণ এবং পরবর্তীতে নির্ধারিত ভাষা ক্লাসে অংশ নেওয়ার প্রমাণপত্র। তবে সেখানে এও সতর্ক করা হয়েছে যে কোম্পানি বা স্কুলের দেওয়া প্রত্যয়ন সব ক্ষেত্রে দূতাবাস নাও গ্রহণ করতে পারে।

এই কথাগুলোর মানে এই নয় যে A2 বা B1 থাকলেই সব জায়গায় ভর্তির দরজা খুলে যাবে। কোনো সার্কুলারে B2 চাওয়া হতে পারে। চিকিৎসাবিষয়ক বা নিয়ন্ত্রিত পেশায় আরও বাড়তি শর্ত থাকতে পারে। তাছাড়া একটি সার্টিফিকেট কখনোই প্রমাণ করে না যে আপনি ইন্টারভিউয়ের পাল্টা প্রশ্ন বুঝতে পারেন, নিজের কোনো প্রজেক্ট বুঝিয়ে বলতে পারেন কিংবা কারিগরি বিষয়ের জটিল ক্লাস ধরতে পারেন।

ভিসার নিয়ম, সার্কুলারের চাহিদা, ইন্টারভিউ, কাজের পরিবেশ, ভোকেশনাল স্কুল এবং ফাইনাল পরীক্ষার ভাষা আলাদা করে মেলাতে আমাদের Ausbildung-এর জন্য B1 যথেষ্ট কি না গাইডটি দেখুন। বর্তমানে আপনার যে লেভেলের বাস্তব দক্ষতা ও প্রমাণ আছে শুধু সেটাই বলুন। সবেমাত্র B2 কোর্স শুরু করেছেন বলেই সিভিতে B2 লিখে দেবেন না।

4. Apply to a company or school, not to Germany

Ausbildung-এর সুযোগ পাওয়ার জন্য কোনো একক জাতীয় আবেদন ফর্ম নেই। সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বা স্কুলের নির্দেশিত মাধ্যমেই আবেদন করতে হয় — যা হতে পারে তাদের অনলাইন ক্যারিয়ার পোর্টাল কিংবা নির্দিষ্ট ইমেইল।

একটি সাধারণ আবেদনপত্রে সাধারণত একটি সিভি, একটি কভার লেটার বা মোটিভেশনাল চিঠি এবং সার্কুলারে চাওয়া সার্টিফিকেটগুলো জমা দিতে হয়। সার্কুলারের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ চাহিদার সাথে আপনার বাস্তব প্রমাণগুলো মেলান — যেমন স্কুলের কোনো নির্দিষ্ট বিষয়, প্রজেক্ট, ইন্টার্নশিপ, পূর্ব অভিজ্ঞতা, স্বেচ্ছাসেবী কাজ বা ভাষার সার্টিফিকেট।

আমাদের Ausbildung সিভি গাইড-এ জার্মান Lebenslauf-এর পূর্ণাঙ্গ কাঠামো দেখানো হয়েছে — যার মধ্যে অননুমোদিত কোনো জার্মান সমমান দাবি না করে নিজের ভারতীয় স্কুল শিক্ষাকে সঠিকভাবে তুলে ধরার নিয়মও রয়েছে।

জার্মান ভাষায় আবেদন করলে এমন সহজ ও স্পষ্ট ভাষা ব্যবহার করুন যা ইন্টারভিউতে আপনি নিজে মুখে ব্যাখ্যা করতে পারবেন। এই পেশা ও কোম্পানিটি কেন বেছে নিলেন, প্রাসঙ্গিক কোনো বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরা, সম্পূরক প্রশ্ন বুঝতে পারা এবং প্রয়োজনে প্রশ্ন স্পষ্ট করার অনুরোধ জানানোর প্রস্তুতি রাখুন।

উপযুক্ত একাধিক পদে আবেদন করুন এবং আবেদনের শেষ তারিখ, কোন সিভিটি পাঠিয়েছেন, যোগাযোগের ব্যক্তি এবং উত্তরের একটি সাধারণ হিসাব রাখুন। এরপরে ইন্টারভিউ, লিখিত পরীক্ষা বা অ্যাসেসমেন্ট সেন্টারে অংশ নেওয়ার ডাক আসতে পারে। শুধু আবেদন করলেই চুক্তি হয়ে যাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা থাকে না।

5. Check the recruiter and the offer before you pay

অফিশিয়াল পেশা বিবরণী ও সরকারি চাকরির পোর্টাল ব্যবহার করার জন্য কোনো প্রাইভেট এজেন্সির প্রয়োজন হয় না। তবে কোনো রিক্রুটার যদি জড়িত থাকে, তবে রিক্রুটার এবং জার্মানির অফার — দুটোই ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য প্রশ্নোত্তর পেজ-এ বলা হয়েছে যে কোনো রিক্রুটিং এজেন্ট eMigrate পোর্টালে নিবন্ধিত কি না তা যাচাই করা যায়। এছাড়া অফার লেটারটি আসল কি না তা নিশ্চিত করতে সরাসরি জার্মানির সেই নিয়োগকর্তার সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ভোকেশনাল ট্রেনিংয়ের সুযোগ করে দেওয়ার বিনিময়ে কাউকে টাকা দেওয়ার প্রস্তাবে রাজি হবেন না। জার্মানির আইন অনুযায়ী, কেবল নিয়োগকর্তার কাছ থেকেই এই বাবদ ফি নেওয়া যায়, এবং প্লেসমেন্টের প্রস্তুতি বা সহায়তামূলক সেবার ক্ষেত্রেও এই একই নিয়ম প্রযোজ্য।

কোনো সেবার জন্য অর্থ পরিশোধের আগে:

  • eMigrate পোর্টালে রিক্রুটিং এজেন্টের বৈধতা যাচাই করুন;
  • অফারটি নিশ্চিত করতে সরাসরি জার্মান নিয়োগকর্তা বা স্কুলের সাথে যোগাযোগ করুন;
  • নির্দিষ্ট কোন সেবা দেওয়া হবে, তার ফি কত এবং টাকা ফেরতের (refund) শর্ত কী — তা লিখিতভাবে বুঝে নিন;
  • লিখিত অফারে নিয়োগকর্তার নাম, পেশা, কাজের স্থান, শুরুর তারিখ এবং চুক্তির শর্তগুলো স্পষ্ট উল্লেখ আছে কি না তা নিশ্চিত করুন।

আলাদা কোনো জার্মান কোর্স বা কাগজপত্র যাচাইয়ের সেবা সরাসরি প্লেসমেন্ট সার্ভিসের আওতায় পড়ে না। তবে লিখিত চুক্তিতে আপনি যে সেবা পাবেন তার সাথে কাজের মিল রয়েছে কি না তা নিশ্চিত হয়ে নিন। এজেন্ট নিবন্ধিত হওয়া বা টাকা দেওয়া কোনো চুক্তির সত্যতা প্রমাণ করে না, কিংবা এর মাধ্যমে দূতাবাস ভিসা দেবে এমন কোনো নিশ্চয়তাও তৈরি হয় না।

আমাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও এজেন্সি প্রতারণার সতর্কতা গাইড-এ লিখিত চুক্তি, অগ্রিম টাকা দাবি, পাসপোর্ট জমা রাখা এবং ভাষা সনদের বিষয়ে জার্মান আইনের যে সাধারণ নিয়মগুলো বলা আছে, তা যে দেশ থেকেই আবেদন করুন না কেন সমানভাবে প্রযোজ্য।

6. Use the India visa process after you have a confirmed place

ভোকেশনাল ট্রেনিং সম্পন্ন করার ভিসার জন্য সাধারণত কোম্পানি বা স্কুলে একটি নিশ্চিত সুযোগ থাকতে হয়। ভারতের জার্মান মিশনের বর্তমান পেজে আবেদনকারীদের জার্মান পররাষ্ট্র দপ্তরের কনস্যুলার সার্ভিস পোর্টালে আবেদন শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আপনার উত্তরের ওপর ভিত্তি করেই পোর্টালটি উপযুক্ত ভিসা সাব-ক্যাটাগরি নির্ধারণ করে।

ভোকেশনাল ট্রেনিং ভিসার জন্য পেজটিতে বর্তমানে নিচের নথিগুলো আপলোড করতে বলা হয়েছে:

  • একটি বৈধ পাসপোর্ট;
  • জার্মান ভাষার দক্ষতার প্রমাণপত্র;
  • স্বাক্ষরিত ট্রেনিং চুক্তিপত্র;
  • কোম্পানির ট্রেনিং চুক্তিপত্রটি সংশ্লিষ্ট চেম্বার বা প্রতিষ্ঠানে নিবন্ধিত হয়েছে মর্মে নিশ্চিতকরণ পত্র;
  • নিজের ভাষায় ইংরেজি বা জার্মানে লেখা একটি মোটিভেশন লেটার;
  • ১০ম ও ১২শ শ্রেণীর মার্কশিট;
  • স্বাস্থ্যবিমার প্রমাণপত্র।

পোর্টাল থেকে আরও কিছু নথিপত্র চাইতে পারে। জার্মান দূতাবাস সনদ যাচাই বা সরাসরি ইন্টারভিউয়ের জন্যও ডাকতে পারে। কোনো কনসালটেন্টের পুরোনো তালিকা না দেখে সবসময় সক্রিয় অফিশিয়াল পেজটি দেখুন।

হাতে যদি ট্রেনিংয়ের সুযোগ না থাকে, তবে চুক্তিপত্র ঐচ্ছিক মনে করে এই ক্যাটাগরিতে আবেদন করতে যাবেন না। কেন্দ্রীয় ভোকেশনাল ট্রেনিং ভিসা পেজ-এ ট্রেনিং খোঁজার জন্য আলাদা একটি ভিসার বিবরণ দেওয়া আছে। সেটির ক্ষেত্রে স্কুল সনদ, B1 লেভেল, বয়স এবং আর্থিক সামর্থ্যের নিজস্ব শর্ত রয়েছে। প্রতি বছর জীবনযাত্রার খরচের আর্থিক পরিমাণে পরিবর্তন আসতে পারে, তাই বর্তমান অঙ্কটি সেখান থেকে দেখে নিন।

তালিকায় থাকা প্রতিটি নথি জমা দিলেই যে ভিসা হয়ে যাবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। জার্মান দূতাবাসই আবেদনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় এবং প্রয়োজনে আরও প্রমাণপত্র চাইতে পারে।

Build your first application list

একটি পেশা বেছে নিন এবং এর ট্রেনিং ডুয়াল নাকি স্কুলভিত্তিক, তা নিশ্চিত করুন। বর্তমান তিনটি সার্কুলার বা স্কুলের কোর্স খুলুন। প্রতিটির ক্ষেত্রে শুরুর তারিখ, ভাষার সুনির্দিষ্ট শর্ত, প্রয়োজনীয় স্কুল সনদ, কী কী নথি চেয়েছে এবং আবেদনের মাধ্যম লিখে রাখুন।

এরপর আমাদের Ausbildung প্রস্তুতির সেলফ-চেক টুল ব্যবহার করুন। আপনার দেওয়া পাঁচটি উত্তর শুধুই আপনার ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে এবং এর মাধ্যমে আপনি পরবর্তী করণীয় পদক্ষেপগুলোর একটি গোছানো তালিকা পেয়ে যাবেন। এটি প্রস্তুতির একটি বাস্তব রূপরেখা, কোনো ভর্তি বা ভিসার নিশ্চয়তা নয়।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

ভারত থেকে কি জার্মানিতে Ausbildung-এর জন্য আবেদন করা যায়?

হ্যাঁ। ভারত থেকেই আপনি জার্মানির বিভিন্ন কোম্পানি বা ভোকেশনাল স্কুলে আবেদন করতে পারবেন। সুযোগ পাওয়া পুরোপুরি নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের ওপর। ট্রেনিংয়ের নিশ্চিত সুযোগ পেলে ভারতের জার্মান মিশনের বর্তমান প্রক্রিয়া দেখে আপনার জন্য প্রযোজ্য ভিসা ক্যাটাগরি ও কাগজপত্র নিশ্চিত করুন।

ভারত থেকে ভিসার আবেদনের আগে কি ট্রেনিংয়ের চুক্তিপত্র থাকা বাধ্যতামূলক?

ভোকেশনাল ট্রেনিং সম্পন্ন করার ভিসার জন্য সাধারণত কোম্পানি বা স্কুলভিত্তিক কোনো প্রতিষ্ঠানে ট্রেনিংয়ের নিশ্চিত সুযোগ থাকতে হয়। আর যাঁরা যোগ্য, জার্মানিতে গিয়ে ট্রেনিং খোঁজার জন্য তাঁদের জন্য আলাদা একটি ভিসা রয়েছে — যার ক্ষেত্রে স্কুল সনদ, B1 লেভেল, বয়স ও আর্থিক সামর্থ্যের শর্তগুলো আলাদা।

ভারত থেকে Ausbildung-এর জন্য কি B1 জার্মান যথেষ্ট?

কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় সাধারণত B1-এর কথা বলা থাকে। তবে ভারতের জার্মান দূতাবাসের বর্তমান পেজ অনুযায়ী সাধারণ পেশাগত প্রশিক্ষণে অন্তত A2 এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত পেশায় অন্তত B1 প্রয়োজন হয়। কোম্পানি বা স্কুল এর চেয়েও ভালো জার্মান চাইতে পারে; তাই সার্কুলার ও ভিসার শর্তগুলো আলাদাভাবে দেখে নিন।

Ausbildung পাওয়ার জন্য কি এজেন্সিকে টাকা দেওয়া উচিত?

টাকা দেওয়ার আগে সেবার ধরন ভালো করে জেনে নিন। জার্মানির আইন অনুযায়ী, ভোকেশনাল ট্রেনিংয়ের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য কেবল নিয়োগকর্তার কাছ থেকেই ফি নেওয়া যায়, প্রার্থীর কাছ থেকে নয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় eMigrate পোর্টালে রিক্রুটিং এজেন্টের নিবন্ধন যাচাই করতে এবং বিদেশি নিয়োগকর্তার সাথে সরাসরি অফার লেটার নিশ্চিত করার পরামর্শ দেয়। কোনো ফি যদি আলাদা ভাষা শেখা বা ডকুমেন্টের জন্য হয়, তবে তার সুনির্দিষ্ট বিবরণ, মূল্য ও টাকা ফেরতের শর্ত লিখিতভাবে নিন।