গাইড

জার্মানি Opportunity Card: প্রয়োজনীয় শর্ত ও ডকুমেন্ট

Opportunity Card পাওয়ার দুটি পৃথক পথ, প্রতিটি শর্ত ও তার প্রমাণপত্র, ২০২৬ সালের আর্থিক হিসাব এবং রেসিডেন্স অ্যাক্ট অনুযায়ী পয়েন্টের বিস্তারিত ব্যাখ্যা।

B1 Atlas · হালনাগাদ

Opportunity Card (জার্মান ভাষায় Chancenkarte) ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের নাগরিকদের চাকরির প্রস্তাব ছাড়াই কাজের সন্ধানে জার্মানিতে আসার সুযোগ দেয়। এই কার্ড পাওয়ার জন্য দুটি সম্পূর্ণ আলাদা পথ রয়েছে এবং উভয়ের শর্তাবলিও ভিন্ন। এই দুটি পথ গুলিয়ে ফেলার কারণেই মূলত বেশিরভাগ বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

এই গাইডে দুটি পথ স্পষ্টভাবে আলাদা করে দেখানো হয়েছে, প্রতিটি শর্তের পাশে সেটির প্রমাণপত্রের বিবরণ দেওয়া হয়েছে এবং পরিশেষে জার্মান দূতাবাসের চাওয়া কাগজপত্রের তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। এখানকার প্রতিটি তথ্য সরাসরি জার্মান রেসিডেন্স অ্যাক্ট (Aufenthaltsgesetz) ও অফিশিয়াল পোর্টালগুলোর তথ্যের সাথে মিলিয়ে যাচাই করা, এবং প্রতিটি তথ্যের সপক্ষে মূল সোর্সের লিংক যুক্ত করা হয়েছে যাতে আপনি নিজেও তা পড়ে দেখতে পারেন।

আপনি যদি আগে প্রচলিত জব সিকার ভিসার খোঁজ করতে গিয়ে এখানে এসে থাকেন, তবে সবার আগে জব সিকার ভিসার পরিবর্তে কী চালু হয়েছে এবং কোন পথটি আপনার জন্য প্রযোজ্য গাইডটি পড়ুন। সেখানে বিস্তারিত রয়েছে আপনার বর্তমান যোগ্যতার ভিত্তিতে কোন পথে আবেদন করা উচিত।

Opportunity Card আসলে কী

Opportunity Card হলো জার্মান রেসিডেন্স অ্যাক্টের আওতাভুক্ত জার্মানিতে কাজের সন্ধানের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রেসিডেন্স পারমিট। এছাড়া বিদেশি ডিগ্রি বা যোগ্যতার সমমান স্বীকৃতির (Anerkennung) প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্যও এই পারমিট ব্যবহার করা যায়।

এই কার্ড থাকাকালীন আপনি সপ্তাহে গড়ে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারবেন এবং যেকোনো নিয়োগদাতার অধীনে সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ পর্যন্ত ট্রায়াল হিসেবে কাজের (Probearbeit) সুযোগ পাবেন। প্রাথমিকভাবে এই কার্ডটি সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য দেওয়া হয়। এই এক বছরের মধ্যে যদি আপনি কোনো উপযুক্ত চাকরি পেয়ে যান, তবে জার্মানিতে বসেই সরাসরি কাজের রেসিডেন্স পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারবেন। অথবা চুক্তিনামা বা নিশ্চিত কাজের প্রস্তাব এবং ফেডারেল এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সির অনুমোদনের ভিত্তিতে কার্ডের মেয়াদ আরও দুই বছর পর্যন্ত বাড়ানো যায়।

মনে রাখবেন, এই কার্ডটি স্বয়ং কোনো কাজের ভিসা নয় এবং এটি কোনো কাজের নিশ্চয়তাও দেয় না। এটি মূলত জার্মানিতে বৈধভাবে থেকে উপযুক্ত চাকরি খুঁজে নেওয়ার সময় সুযোগ করে দেয়।

দুটি পথের মধ্যে কোনটি আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য

এই কার্ডের জন্য যোগ্যতা অর্জনের দুটি নির্দিষ্ট উপায় রয়েছে, এবং আপনার কেবল যেকোনো একটি পূরণ করলেই চলবে।

১ম পথ: দক্ষ কর্মীর পথ (Skilled Worker)। আপনার যদি জার্মানি থেকে অর্জিত কোনো বৃত্তিমূলক ডিগ্রি বা উচ্চশিক্ষার সনদ থাকে, অথবা বিদেশি ডিগ্রি থাকে যা ইতিমধ্যে জার্মানিতে পূর্ণ সমমান হিসেবে স্বীকৃত (fully recognised)। জার্মান আইনে এমন ব্যক্তিকে Fachkraft বা দক্ষ কর্মী বলা হয়। এই পথে কোনো পয়েন্ট টেবিল নেই এবং কোনো ভাষা দক্ষতার বাধ্যবাধকতাও নেই।

২য় পথ: পয়েন্টের পথ (Points System)। আপনার ডিগ্রি বা পেশাগত যোগ্যতা যে দেশ থেকে অর্জিত সেখানে সরকার স্বীকৃত, কিন্তু জার্মানিতে সেটি পূর্ণ সমমান হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি। এমন ক্ষেত্রে আপনাকে প্রাথমিক যোগ্যতার শর্ত, ভাষার শর্ত পূরণ করতে হবে এবং পয়েন্ট টেবিলে অন্তত ৬ পয়েন্ট অর্জন করতে হবে।

সুতরাং প্রথম প্রশ্ন কিন্তু এটা নয় যে “আমার কত পয়েন্ট আছে?” মূল প্রশ্ন হলো “কোনো জার্মান কর্তৃপক্ষ কি ইতিমধ্যে আমার ডিগ্রিকে পূর্ণ সমমান ঘোষণা করেছে?” উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তবে পয়েন্ট টেবিল আপনার জন্য প্রযোজ্যই নয়। বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য অফিসিয়াল ফেডারেল পোর্টালও এই দুটি পথকে সম্পূর্ণ আলাদা হিসেবেই বিবেচনা করে।

উভয় পথের জন্য সাধারণ শর্তাবলি

আপনি যে পথেই আবেদন করুন না কেন, নিচের শর্তগুলো সবার জন্যই প্রযোজ্য।

বৈধ পাসপোর্ট, জীবিকার নিশ্চয়তা এবং ভিসা প্রত্যাখ্যানের কোনো কারণ না থাকা। রেসিডেন্স অ্যাক্ট অনুযায়ী যেকোনো রেসিডেন্স পারমিটের জন্য এগুলো মৌলিক শর্ত, যা সরকারের “এক নজরে” নির্দেশিকায় তুলে ধরা হয়েছে। “জীবিকার নিশ্চয়তা” কোনো সাধারণ অনুমান নয়, এটি একটি সুনির্দিষ্ট আইনি সংজ্ঞা: এর অর্থ হলো আপনি সরকারের কোনো সামাজিক সহায়তা বা পাবলিক ফান্ড ছাড়াই হেলথ ইন্স্যুরেন্সসহ নিজের জীবনযাত্রার সকল ব্যয় বহন করতে সক্ষম।

আবেদনের সম্পূর্ণ মেয়াদের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ। বিস্তারিত নিচে ফান্ডের সেকশনে দেখুন।

জার্মানিতে প্রবেশের প্রথম দিন থেকেই কার্যকর স্বাস্থ্যবীমা। জীবিকার নিশ্চয়তার অংশ হিসেবেই এটি বাধ্যতামূলক। Make it in Germany-র প্রশ্নোত্তর পেজ এবং জার্মান মিশনগুলোর নথির তালিকায় এই সার্টিফিকেট আলাদাভাবে আপলোড করতে বলা হয়েছে। সাধারণত ভিসার পুরো মেয়াদ কভার করে এমন ট্রাভেল/ইনকামিং হেলথ ইন্স্যুরেন্স পলিসি গ্রহণ করা হয়।

আপনি যদি ইতিমধ্যে জার্মানিতে অবস্থান করেন, তবে কেবল তখনই প্রথম Opportunity Card পাওয়া সম্ভব যদি আপনার কাছে রেসিডেন্স অ্যাক্টের প্রাসঙ্গিক ধারার কোনো বৈধ রেসিডেন্স পারমিট থাকে। ট্যুরিস্ট ভিসায় থাকা অবস্থায় এটিতে পরিবর্তন করা যায় না।

১ম পথের শর্ত: স্বীকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা বা ডিগ্রি

নিচের যেকোনো একটি প্রমাণ আপনার থাকতে হবে:

  • জার্মানিতে সম্পন্ন করা কোনো বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ (Ausbildung) বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি।
  • বিদেশি কোনো ডিগ্রি যা জার্মানিতে অফিসিয়ালি পূর্ণ সমমান হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।

বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রির ক্ষেত্রে সাধারণত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের anabin ডাটাবেজের মাধ্যমে সমমান যাচাই করা হয়। একটি কার্যকর প্রমাণের জন্য আপনার ডিগ্রিটি entspricht (অনুরূপ) বা gleichwertig (সমমান) হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়টির রেটিং হতে হবে H+। আপনার ডিগ্রি বা বিশ্ববিদ্যালয় যদি anabin-এ এই স্ট্যাটাসে না থাকে, তবে সেন্ট্রাল অফিস ফর ফরেন এডুকেশন (ZAB) থেকে একটি Statement of Comparability সংগ্রহ করতে হবে, যা একটি নির্দিষ্ট ফির বিনিময়ে দেওয়া অফিসিয়াল মূল্যায়নপত্র।

বিদেশি বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বীকৃতির অর্থ হলো সংশ্লিষ্ট জার্মান কর্তৃপক্ষের দেওয়া অফিসিয়াল স্বীকৃতির চিঠি (Anerkennungsbescheid)। সরকারি Recognition in Germany পোর্টাল থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়, এবং সেখানেই জানা যায় আপনার পেশার জন্য কোন কর্তৃপক্ষ দায়িত্বপ্রাপ্ত।

এই পথে কোনো ভাষা দক্ষতার সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। তবে সরকারের পরামর্শ হলো যত দ্রুত সম্ভব জার্মান ভাষা শেখা, কারণ আপনি চাকরির ইন্টারভিউ দিতে এবং চাকরি করতেই জার্মানিতে যাচ্ছেন।

২য় পথের শর্ত: যোগ্যতা, ভাষা দক্ষতা ও ৬ পয়েন্ট

এই পথে তিনটি শর্ত একসাথে পূরণ করতে হবে। শুধু পয়েন্ট থাকলেই চলবে না, আবার শুধু ভাষা জানলেও হবে না।

গ্রহণযোগ্য শিক্ষাগত যোগ্যতা। তিন ধরনের যোগ্যতা গ্রহণযোগ্য: নিজ দেশে সরকার স্বীকৃত অন্তত দুই বছর মেয়াদী বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ সনদ; নিজ দেশে সরকার স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি; অথবা বিদেশে অবস্থিত জার্মান চেম্বার অব কমার্স (AHK)-এর ক্যাটাগরি ‘এ’ সার্টিফিকেট। জার্মানির উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ দ্বারা এই স্বীকৃতির সত্যতা নিশ্চিত হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রির ক্ষেত্রে anabin বা ZAB-এর Statement of Comparability প্রয়োজন; বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে প্রয়োজন ZAB-এর Statement on a Foreign Vocational Qualification (সংক্ষেপে DAB), যা প্রত্যয়ন করে যে প্রশিক্ষণটি সম্পন্ন হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশে স্বীকৃত এবং এটি অন্তত দুই বছরের ফুল-টাইম প্রশিক্ষণের সমতুল্য।

তবে এই শর্ত এড়ানোর একটি উপায় আছে। জার্মান কোনো স্বীকৃতি দানকারী সংস্থা যদি ইতিমধ্যে আংশিক স্বীকৃতির চিঠি (partial recognition) দিয়ে থাকে, তবে আপনি সরাসরি ৪ পয়েন্ট পাবেন এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সাধারণ শর্তটি পুরোপুরি মাফ হয়ে যাবে। তবে স্বীকৃতির আবেদন কেবল পেন্ডিং বা প্রক্রিয়াধীন থাকলে কোনো সুবিধা মিলবে না।

ভাষা দক্ষতা: জার্মান A1 অথবা ইংরেজি B2। এটি এই পথে প্রবেশের একটি মৌলিক প্রবেশদ্বার, কোনো স্কোরিং বা পয়েন্টের মানদণ্ড নয়। রেসিডেন্স অ্যাক্টে এই লেভেলগুলো বর্ণ দিয়ে নয় বরং জার্মান শব্দে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে: einfache হলো A1, hinreichende হলো A2, ausreichende হলো B1 এবং gute হলো B2। সুতরাং Common European Framework অনুযায়ী ন্যূনতম সীমা হলো জার্মান A1 অথবা ইংরেজি B2।

ভাষার সার্টিফিকেটটি অবশ্যই Association of Language Testers in Europe (ALTE) অনুমোদিত অথবা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে হতে হবে এবং সাধারণত পরীক্ষার বয়স এক বছরের কম হতে হয়। আপনি যদি কোনো মডিউল পুনরায় দিয়ে থাকেন, তবে প্রথম পাস করা মডিউলের তারিখটিই ধর্তব্য হবে। ইংরেজি যাদের মাতৃভাষা, তাদের জন্যও সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার নিয়ম শিথিল নয়। এছাড়া কিছু দূতাবাস নির্দিষ্ট কিছু পরীক্ষা গ্রহণ করে না: যেমন ভারতের জার্মান মিশনগুলো স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে সেখানে Pearson PTE, Duolingo এবং TOEFL অনলাইন সার্টিফিকেট গ্রহণযোগ্য নয়।

অন্তত ৬ পয়েন্ট অর্জন। বিস্তারিত পরবর্তী সেকশনে আলোচনা করা হয়েছে।

আইনের আলোকে পয়েন্টের বিস্তারিত তালিকা

পয়েন্টের মানগুলো কোনো অস্থায়ী নির্দেশিকা নয়। এগুলো সরাসরি রেসিডেন্স অ্যাক্টের পরিশিষ্টে আইনি ধারা হিসেবে লিপিবদ্ধ, যেখানে ন্যূনতম ৬ পয়েন্ট অর্জনের নিয়মও বলা হয়েছে। নিচের সকল পয়েন্ট সেখান থেকেই নেওয়া হয়েছে।

মানদণ্ড পয়েন্ট প্রমাণের জন্য যা লাগবে
যোগ্যতার আংশিক স্বীকৃতি (Partial recognition), অথবা কোনো নিয়ন্ত্রিত পেশার লাইসেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণমূলক ব্যবস্থা 4 জার্মান স্বীকৃতি দানকারী কর্তৃপক্ষের ইস্যুকৃত অফিশিয়াল চিঠি। শুধু আবেদন চলমান থাকলে পয়েন্ট পাওয়া যাবে না।
জার্মান ভাষা দক্ষতা B2 বা তার বেশি 3 স্বীকৃত পরীক্ষাকেন্দ্রের সার্টিফিকেট।
জার্মান ভাষা দক্ষতা B1 2 একই নিয়ম; কেবল তখনই পাবেন যদি B2 লেভেলের পয়েন্ট দাবি না করেন।
জার্মান ভাষা দক্ষতা A2 1 একই নিয়ম; কেবল তখনই পাবেন যদি B1 বা B2-এর পয়েন্ট দাবি না করেন।
ইংরেজি ভাষা দক্ষতা C1 বা তার বেশি 1 অফিশিয়াল সার্টিফিকেট। এটি জার্মান পয়েন্টের বিকল্প নয়, বরং তার সাথে বাড়তি হিসেবে যোগ হয়।
গত ৭ বছরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অন্তত ৫ বছরের পেশাগত কাজের অভিজ্ঞতা 3 কাজের দায়িত্ব উল্লেখসহ চাকরির সার্টিফিকেট, বিস্তারিত সিভি এবং রেফারেন্স লেটার।
গত ৫ বছরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অন্তত ২ বছরের পেশাগত কাজের অভিজ্ঞতা 2 একই নিয়ম; কেবল তখনই পাবেন যদি ৫ বছরের অভিজ্ঞতার পয়েন্ট দাবি না করেন।
আপনার পেশা ঘাটতি পেশার তালিকার (Shortage occupation) অন্তর্ভুক্ত 1 অফিশিয়াল তালিকার সাথে মিলিয়ে যাচাইকৃত পেশা গ্রুপ।
আবেদনের সময় আপনার বয়স ৩৫ বছর বা তার কম 2 পাসপোর্ট।
আবেদনের সময় আপনার বয়স ৩৬ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে 1 পাসপোর্ট; কেবল তখনই পাবেন যদি পূর্ববর্তী বয়সসীমার পয়েন্ট দাবি না করেন।
গত ৫ বছরের মধ্যে জার্মানিতে বৈধভাবে অন্তত ৬ মাস একটানা বসবাসের অভিজ্ঞতা 1 পুরোনো পাসপোর্ট, ভিসা, এন্ট্রি স্ট্যাম্প, রেসিডেন্স পারমিট বা পড়ার/কাজের নথি। ট্যুরিস্ট ও পারিবারিক সফর গণ্য হবে না।
আপনার স্বামী/স্ত্রী বা রেজিস্টার্ড পার্টনারও যোগ্য, একই সংস্থায় আবেদন করছেন এবং একসাথে আসার পরিকল্পনা রয়েছে 1 বিয়ের সার্টিফিকেট এবং পার্টনারের ভিসা আবেদনের রেফারেন্স নম্বর।

এই টেবিলটি বোঝার জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম মনে রাখা প্রয়োজন।

প্রথমত, জার্মান ভাষার লেভেল এবং কাজের অভিজ্ঞতার পয়েন্টগুলো একটির বদলে আরেকটি প্রযোজ্য। আপনি যেটির সর্বোচ্চ প্রমাণ দিতে পারবেন, কেবল সেটির জন্যই পয়েন্ট পাবেন, সবগুলো একসাথে যোগ হবে না। তবে ইংরেজি C1 এর ব্যতিক্রম—এটি জার্মান ভাষার পয়েন্টের সাথে অতিরিক্ত হিসেবে যোগ করা যায়।

দ্বিতীয়ত, ঘাটতি পেশা (Shortage occupation) বলতে কেবল জার্মান কোম্পানিগুলোর দাবি করা কোনো সাধারণ তালিকা নয়। রেসিডেন্স অ্যাক্টের আইনি ধারায় উল্লেখিত সুনির্দিষ্ট পেশা গ্রুপকে বোঝানো হয়েছে: ISCO-08 কোডের ১৩২, ১৩৩, ১৩৪, ২১, ২২১, ২২২, ২২৫, ২২৬, ২৩ এবং ২৫ নম্বর গ্রুপ। এর মধ্যে পড়ে নির্দিষ্ট ম্যানেজারিয়াল পদ, বিজ্ঞান ও ইঞ্জিনিয়ারিং, চিকিৎসক, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি, পশুচিকিৎসক, স্বাস্থ্য খাতের অন্যান্য পেশা, শিক্ষকতা এবং আইসিটি (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি)। সরকারের ঘাটতি পেশার তালিকায় এই গ্রুপগুলোর চার অঙ্কের সুনির্দিষ্ট পদের নাম ইংরেজিতে দেওয়া আছে।

তৃতীয়ত, যে পয়েন্টের সপক্ষে আপনি কোনো অফিশিয়াল ডকুমেন্ট দিতে পারবেন না, তা পয়েন্ট হিসেবে গণ্য হবে না। প্রতিটি দাবির জন্যই সরকারি পোর্টালে প্রমাণপত্র সংযুক্ত করতে হয়। তাই কেবল সেগুলোই হিসাব করুন যার সপক্ষে আপনার কাছে বৈধ কাগজ রয়েছে।

একটি অফিশিয়াল পোর্টালে আইনের সাথে একটি তথ্যের অমিল রয়েছে। ৩ পয়েন্টের অভিজ্ঞতার ধাপটির ক্ষেত্রে রেসিডেন্স অ্যাক্ট এবং Make it in Germany উভয়ই বলে গত ৭ বছরের মধ্যে ৫ বছরের অভিজ্ঞতা। কিন্তু Consular Services Portal-এর ওভারভিউ পেজে জার্মান ও ইংরেজি উভয় সংস্করণেই বলা হয়েছে গত ৭ বছরের মধ্যে ৩ বছরের অভিজ্ঞতা। যেহেতু আইনই চূড়ান্ত, তাই নিরাপদ থাকার জন্য ৫ বছরের অভিজ্ঞতার প্রস্তুতি নিয়ে এগোনোই বুদ্ধিমানের কাজ হবে, এবং বাকিটা দূতাবাসের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিন। বিষয়টি জেনে রাখা জরুরি, কারণ পোর্টালের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেখে হিসাব করলে আপনি ১ পয়েন্ট কম পেয়ে পিছিয়ে পড়তে পারেন।

আপনি যদি সহজেই নিজের পয়েন্ট হিসাব করতে চান, তবে আমাদের সাইটের ফ্রি Opportunity Card পয়েন্ট ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারেন, যা একই আইনি ধারার ভিত্তিতে তৈরি। এটি ব্রাউজারে কাজ করে, কোনো তথ্য কোথাও পাঠায় না এবং আপনাকে পয়েন্টের সঠিক চিত্র ও প্রয়োজনীয় নথির তালিকা জানিয়ে দেয়।

আর্থিক সচ্ছলতার শর্ত

আপনাকে প্রমাণ করতে হবে যে আপনি যে মেয়াদের জন্য আবেদন করছেন সেই পুরো সময় নিজের খরচ চালাতে সক্ষম। ২০২৬ সালের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী এই অর্থের পরিমাণ প্রতি মাসে নেট ১,০৯১ ইউরো, যা Make it in Germany এবং Consular Services Portal উভয় জায়গাতেই উল্লেখ রয়েছে। পুরো ১২ মাসের জন্য আবেদন করলে মোট প্রয়োজন হবে ১৩,০৯২ ইউরো।

এটি প্রমাণের তিনটি পথ রয়েছে, যা প্রয়োজনে একসাথে মিলিয়েও দেখানো যায়:

  • ব্লকড অ্যাকাউন্ট (Sperrkonto)। আপনি নিজে যেকোনো সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বেছে নিতে পারেন। মূল ফান্ডের বাইরে ব্যাংকের কিছু সার্ভিস ফি থাকে। অ্যাকাউন্টটি সাধারণত এক বছরের জন্য খোলা হয় এবং প্রতি মাসে কেবল একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ তোলা যায়। জার্মান দূতাবাসকে অ্যাকাউন্টের বেনিফিশিয়ারি হিসেবে যুক্ত রাখা হয়, তবে তারা কোনোভাবেই আপনার টাকা তুলে নিতে পারে না। ফেডারেল ফরেন অফিস কোনো নির্দিষ্ট প্রোভাইডারকে রিকমেন্ড করে না এবং ২০২২ সালে তাদের পুরোনো তালিকা বাতিল করেছে; ফলে কোনো প্রতিষ্ঠান যদি নিজেদের সরকারি তালিকাভুক্ত দাবি করে তবে তা সঠিক নয়। বিস্তারিত জানার জন্য আমাদের ব্লকড অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ গাইড দেখুন, যেখানে ভিসা রিজেক্ট হলে কীভাবে ব্লক উঠিয়ে টাকা ফেরত আনা যায় তাও আলোচনা করা হয়েছে।
  • স্পনসরশিপ লেটার বা প্রতিশ্রুতির ঘোষণা (Verpflichtungserklärung)। জার্মানিতে বসবাসকারী পর্যাপ্ত আয়ের কোনো ব্যক্তি আপনার যাবতীয় আর্থিক দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে পারেন। এজন্য তাকে সশরীরে স্থানীয় ফরেনার্স অথরিটিতে গিয়ে আবেদন করতে হয়।
  • জার্মানিতে খণ্ডকালীন চাকরির চুক্তি (সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা)। যদি সেই চাকরির নেট বেতন মাসিক নির্ধারিত অঙ্ক পূরণ করে, তবে তা গ্রহণযোগ্য; আর যদি কিছুটা কম হয়, তবে বাকি ঘাটতি ব্লকড অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পূরণ করা যায়।

আপনার জমা করা ফান্ড যদি পুরো বছরের জন্য যথেষ্ট না হয়, তবে কেবল সেই মেয়াদের জন্যই সাময়িকভাবে কার্ড ইস্যু করা হতে পারে (সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত), যা পরবর্তীতে পরিস্থিতির উন্নতি হলে জার্মানিতে থেকেই বাড়ানো সম্ভব।

এই মাসিক খরচের পরিমাণটি সময়ে সময়ে পুনর্মূল্যায়ন করে নতুন করে প্রকাশ করা হয়, তাই টাকা ট্রান্সফারের আগে সর্বদা দূতাবাস বা পোর্টালের বর্তমান সংখ্যাটি দেখে নিন। ২০২৬ সালের জানুয়ারির ফেডারেল তথ্য অনুযায়ী ভিসা ফি হলো ৭৫ ইউরো, যা লোকাল কারেন্সিতে পরিশোধযোগ্য। কিছু মিশন থার্ড-পার্টি সার্ভিস এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন নেয়, সেক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব সার্ভিস চার্জ আলাদা হতে পারে। এই মাসিক ফান্ডের উৎস, প্রতিটি পদ্ধতির নিয়ম এবং সংশ্লিষ্ট আইন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন Opportunity Card-এ কত খরচ হয়।

প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের তালিকা

প্রতিটি আবেদনই শুরু হয় Make it in Germany-র প্রশ্নোত্তর পেজে প্রকাশিত মূল তালিকা থেকে:

  1. বৈধ পাসপোর্ট। বেশিরভাগ দূতাবাসই পাসপোর্ট ইস্যুর তারিখ গত ১০ বছরের মধ্যে হওয়া এবং অন্তত দুটি ফাঁকা পৃষ্ঠা থাকার নিয়ম প্রয়োগ করে।
  2. শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ। আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ডিগ্রি বা বৃত্তিমূলক সার্টিফিকেট। জার্মান অনুবাদের প্রয়োজন আছে কি না তা জেনে নিন।
  3. স্বীকৃতির প্রমাণপত্র। দক্ষ কর্মীর পথের জন্য জার্মান স্বীকৃতির চিঠি, anabin স্ট্যাটাস বা ZAB Statement of Comparability। পয়েন্টের পথের জন্য নিজ দেশের স্বীকৃতির প্রমাণ: anabin বা Statement of Comparability, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের জন্য DAB, অথবা AHK সার্টিফিকেট।
  4. ভাষা দক্ষতার সার্টিফিকেট, আপনার আবেদন বা পয়েন্টের দাবির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সনদ।
  5. আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ। ব্লকড অ্যাকাউন্টের কনফার্মেশন, স্পনসরশিপের চিঠি (Verpflichtungserklärung), অথবা পার্ট-টাইম কাজের চুক্তি।
  6. স্বাস্থ্যবীমার প্রমাণ, যা জার্মানিতে নামার দিন থেকেই কার্যকর হতে হবে।
  7. আবেদনপত্র। Consular Services Portal-এ অনলাইনে আবেদনের সময় এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয়ে যায়। কোনো কোনো দূতাবাস যদি এখনও সরাসরি কাগুজে আবেদন গ্রহণ করে, তবে সেক্ষেত্রে Videx ফর্ম পূরণ করে নিয়ে যেতে হয়।

এর বাইরে যেসব বিষয়ের জন্য আপনি পয়েন্ট দাবি করছেন, সেগুলোর প্রমাণ লাগবে: অভিজ্ঞতার জন্য সঠিক তারিখ ও দায়িত্ব উল্লেখসহ নিয়োগদাতার চিঠি ও চুক্তিপত্র, অতীতে জার্মানিতে থাকার প্রমাণের জন্য পুরোনো পাসপোর্ট, এবং পার্টনারের পয়েন্ট পেতে ম্যারেজ সার্টিফিকেট ও পার্টনারের আবেদনের রেফারেন্স।

বিভিন্ন দেশের দূতাবাস নিজস্ব কিছু অতিরিক্ত নিয়মও যোগ করে। যেমন ভারতীয় দূতাবাসের ক্ষেত্রে সেমিস্টারভিত্তিক মার্কশিট এবং ভারতে ডিগ্রিটি দূরশিক্ষণ নয় বরং নিয়মিত ক্লাসের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে—এমন প্রত্যয়নপত্র চাওয়া হয়। এই কারণেই Consular Services Portal-এ আগে আবেদন শুরু করা সবচেয়ে সুবিধাজনক: সেখানে আপনার প্রশ্নের উত্তরের ওপর ভিত্তি করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ব্যক্তিগত চেকলিস্ট তৈরি হয়ে যায় যা দেখে আপনি প্রয়োজনীয় ফাইল আপলোড করতে পারবেন। আপনার দেশের দূতাবাসের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও পূর্ণ তালিকা পাওয়া যাবে, এবং সেটির নিয়মই চূড়ান্ত।

ইন্টারনেটে কেউই যা নিশ্চিত করে বলতে পারবে না

ভিসা হবে কি হবে না—সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় কেবল সংশ্লিষ্ট জার্মান দূতাবাস বা ফরেনার্স অথরিটি। কোনো ক্যালকুলেটর, কোনো কনসালটেন্সি ফার্ম বা আমাদের এই ওয়েবসাইটও সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। দূতাবাসগুলোর পোর্টালে স্পষ্টভাবে বলা থাকে: তালিকার সকল ডকুমেন্ট জমা দিলেই যে নিশ্চিত ভিসা মিলবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই, এবং অসম্পূর্ণ ডকুমেন্ট জমা দিলে বা ভিসা ইন্টারভিউতে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানালে আবেদন তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল হয়ে যেতে পারে।

সুতরাং ইন্টারনেটের কোনো প্রতিষ্ঠান যদি আপনাকে ১০০% ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয়, তবে জেনে রাখুন তারা এমন কিছু দাবি করছে যা জানা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আপনার নিয়ন্ত্রণের মধ্যে কেবল এটুকুই আছে: আপনার পথের প্রতিটি শর্ত যেন সঠিকভাবে পূরণ হয় এবং প্রতিটি দাবির পেছনে যেন শতভাগ সঠিক প্রমাণপত্র জমা থাকে।

আপনার পরবর্তী পদক্ষেপ

সবার আগে আপনার পথটি নিশ্চিত করুন, কারণ এর ওপরই বাকি সবকিছু নির্ভর করে। কোনো জার্মান সংস্থা যদি আপনার ডিগ্রিকে ইতিমধ্যে পূর্ণ সমমান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে থাকে, তবে আপনি দক্ষ কর্মী (Skilled Worker) ক্যাটাগরিতে পড়বেন এবং আপনার কোনো পয়েন্ট টেবিলের প্রয়োজনই নেই।

আর আপনি যদি পয়েন্টের পথে থাকেন, তবে আমাদের সাইটের Opportunity Card পয়েন্ট ক্যালকুলেটর-এ আপনার পরিস্থিতি যাচাই করে দেখে নিন কত স্কোর হচ্ছে এবং কোন পয়েন্টের জন্য কোন কাগজ দরকার। এরপর আমাদের ডকুমেন্ট চেকলিস্ট ও পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা প্ল্যানার ব্যবহার করুন, যা আপনার দাবিকৃত প্রতিটি পয়েন্টের জন্য সুনির্দিষ্ট কাগজ এবং তা সংগ্রহে কত সময় লাগতে পারে তা ক্রমানুসারে সাজিয়ে দেয়। এরপর দ্রুত ডিগ্রির স্বীকৃতির নথির জন্য কাজ শুরু করুন—কারণ ZAB-এর Statement of Comparability বা DAB আলাদা কর্তৃপক্ষের বিষয় এবং এর সময়সীমা আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকে না।

স্কোর যদি কিছুটা কম পড়ে এবং ভাষার কারণে পয়েন্ট আটকে থাকে, তবে জার্মান ভাষাই একমাত্র জায়গা যা আপনি নিজের চেষ্টায় বাড়িয়ে নিতে পারেন: A2-তে মিলবে ১ পয়েন্ট, B1-এ ২ পয়েন্ট এবং B2-তে ৩ পয়েন্ট। ভাষা পরীক্ষার জন্য গাইড প্রয়োজন হলে আমাদের কোন B1 পরীক্ষা বেছে নেবেন এবং Goethe বনাম telc-এর তুলনা সংক্রান্ত গাইডগুলো সম্পূর্ণ ফ্রিতে পড়তে পারেন। সব ডকুমেন্ট প্রস্তুত হয়ে গেলে মূল আবেদন করতে হবে Consular Services Portal-এর মাধ্যমে; আর অ্যাকাউন্ট খোলা, ফাইল আপলোড, দূতাবাসের অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও সময়সীমার বিস্তারিত জানতে পড়ুন কীভাবে অনলাইনে Opportunity Card আবেদন করবেন।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

জার্মানি Opportunity Card-এর জন্য কোনো বয়সের সীমা আছে কি?

না, কোনো নির্দিষ্ট বয়সের সীমা নেই। পয়েন্টের ভিত্তিতে আবেদনের ক্ষেত্রে বয়স কেবল একটি স্কোরিং মানদণ্ড, কোনো বাধ্যতামূলক শর্ত নয়। রেসিডেন্স অ্যাক্টের পয়েন্ট টেবিল অনুযায়ী ৩৫ বছর বা তার কম বয়সীদের জন্য ২ পয়েন্ট এবং ৩৬ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের জন্য ১ পয়েন্ট বরাদ্দ রয়েছে। বয়স ৪১ বা তার বেশি হলে বয়সের জন্য কোনো পয়েন্ট পাওয়া যাবে না, তবে অন্যান্য মানদণ্ড পূরণ করে অনায়াসেই প্রয়োজনীয় ৬ পয়েন্ট অর্জন করা সম্ভব। আর দক্ষ কর্মী (Skilled Worker) হিসেবে আবেদনের ক্ষেত্রে বয়সের কোনো পয়েন্ট হিসাবই করা হয় না।

Opportunity Card-এর জন্য জার্মান ভাষা জানা কি বাধ্যতামূলক?

এটি নির্ভর করে আপনি কোন পথে আবেদন করছেন তার ওপর। আপনি যদি দক্ষ কর্মী হিসেবে আবেদন করেন (অর্থাৎ জার্মানিতে আপনার ডিগ্রির পূর্ণ সমমান স্বীকৃতি বা Recognition থাকে), তবে কোনো ভাষার সার্টিফিকেট জমা দিতে হয় না। তবে আপনি যদি পয়েন্টের ভিত্তিতে আবেদন করেন, তবে প্রাথমিকভাবে যোগ্য বিবেচিত হতে হলে অন্তত জার্মান A1 অথবা ইংরেজি B2 সার্টিফিকেট থাকা বাধ্যতামূলক। এর ওপর জার্মান ভাষার লেভেল যত উন্নত হবে, তত বেশি পয়েন্ট যোগ হবে: A2 লেভেলের জন্য ১ পয়েন্ট, B1-এর জন্য ২ পয়েন্ট এবং B2 বা তার ওপরের জন্য ৩ পয়েন্ট। কেবল সর্বোচ্চ লেভেলের জন্যই পয়েন্ট গণনা করা হয়।

Opportunity Card-এর জন্য কত টাকা দেখাতে হয়?

২০২৬ সালের কার্যকর নিয়ম অনুযায়ী আপনাকে প্রতি মাসে অন্তত ১,০৯১ ইউরো নেট দেখাতে হবে, যা Make it in Germany এবং Consular Services Portal উভয় জায়গাতেই উল্লেখ রয়েছে। আপনি যত মাসের জন্য আবেদন করবেন, সেই হিসাব অনুযায়ী ফান্ড দেখাতে হবে—পুরো ১২ মাসের জন্য প্রয়োজন হবে মোট ১৩,০৯২ ইউরো। এই অর্থ আপনি একটি ব্লকড অ্যাকাউন্ট, জার্মানি প্রবাসী কারও স্পনসরশিপ (Verpflichtungserklärung), অথবা সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টার পার্ট-টাইম চাকরির চুক্তি দিয়ে দেখাতে পারেন, এমনকি একাধিক উপায় একসঙ্গে মিলিয়েও দেখানো যায়। এই নির্ধারিত পরিমাণটি সময়ে সময়ে পরিবর্তন হতে পারে, তাই ফান্ড ট্রান্সফারের আগে সর্বদা বর্তমান হিসাবটি দেখে নেওয়া জরুরি।

Opportunity Card আবেদনের জন্য কোন কোন ডকুমেন্ট প্রয়োজন?

Make it in Germany-র মৌলিক তালিকা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথিপত্র হলো: একটি বৈধ পাসপোর্ট, শিক্ষাগত বা পেশাগত যোগ্যতার সনদ, জার্মানি থেকে সমমান স্বীকৃতি বা নিজ দেশে সরকারি অনুমোদনের প্রমাণ, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভাষা দক্ষতার সার্টিফিকেট, পর্যাপ্ত ফান্ডের প্রমাণ, হেলথ ইন্স্যুরেন্সের প্রমাণ এবং পূরণকৃত আবেদনপত্র। বিভিন্ন দেশের দূতাবাসগুলো এর সাথে অতিরিক্ত ডকুমেন্ট চাইতে পারে। অনলাইনে Consular Services Portal-এ আপনার তথ্য দেওয়ার পর সেখানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি নির্দিষ্ট তালিকা তৈরি হয়—সেটিকেই প্রধান তালিকা হিসেবে বিবেচনা করুন।